
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত খসড়ার জবাব পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, তেহরানের প্রতিক্রিয়ায় যুদ্ধের অবসান এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানও নিশ্চিত করেছে যে তারা ইরানের আনুষ্ঠানিক জবাব পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় বর্তমানে এক ধরনের জরুরি পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরের ঠিক এক সপ্তাহ আগে এই কূটনৈতিক অগ্রগতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারণ চীন ইরানের তেলের অন্যতম বড় আমদানিকারক এবং তেহরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংকট সমাধানে সরাসরি আলোচনার পথ এখনও খোলা রয়েছে। তবে নতুন করে আরেক দফা বৈঠক হবে কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি।
এদিকে, চলমান অস্থিরতায় পাকিস্তানও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশটিতে ভোগ্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব পড়ছে। ইরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের সুসম্পর্ক এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গেও পাকিস্তানের গ্রহণযোগ্য অবস্থান থাকায়, মধ্যস্থতায় দেশটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক আলমিগদাদ আলরুহাইদ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনায় যাওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছে ইরান।
ইরানের দাবি, আলোচনার মধ্যেই এক বছরের কম সময়ে দেশটির ওপর দুইবার হামলা হয়েছে। তাই তারা এখন যুদ্ধ বন্ধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে। একই সঙ্গে কৌশলগত এই জলপথ নিরাপদ রাখতে নতুন কাঠামো ও পদ্ধতি তৈরির কাজও চলছে।
তেহরান বলছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ও অধিকার রয়েছে।
সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আব্বাস আসলানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাবে ইরান সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলেনি; বরং নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুই সবচেয়ে জটিল হয়ে উঠেছে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শন ও স্বচ্ছতার বিষয়ে ইরান তুলনামূলক নমনীয় অবস্থানে রয়েছে।
তার মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে যদি কোনো শান্তি চুক্তি হয়, তাহলে তা দুই পক্ষের মধ্যে আস্থা তৈরির পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর বা দীর্ঘ সময়ের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার মতো শর্তে অনড় থাকে, তাহলে সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র : আল জাজিরা


