
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী রেলওয়ে স্টেশনে রেললাইনের সংস্কারকাজ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, নিজের ঘনিষ্ঠ লোকজনকে ঠিকাদারি কাজের অংশীদার না করায় রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদের পক্ষ থেকে কাজ বন্ধ রাখার চাপ দেওয়া হয়েছে। যদিও এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন এমপির ঘনিষ্ঠরা।

‘স্থানীয়দের অংশীদার না করায় কাজ বন্ধের চাপ’—অভিযোগ ঠিকাদারের, অস্বীকার এমপি পক্ষের
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বিশ্বাস কনস্ট্রাকশন’ আড়ানী রেলওয়ে স্টেশনের এক নম্বর লাইনের সংস্কারকাজের দায়িত্ব পায়। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৩০ মিটার রেললাইনে পুরনো কাঠের স্লিপার অপসারণ করে নতুন কংক্রিটের স্লিপার ও পাথর বসানোর কাজ চলছে। প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের কাজ গত ২৭ এপ্রিল শুরু হয়। ইতোমধ্যে পুরনো স্লিপার অপসারণের কাজ শেষ হয়েছে।
তবে কাজ শুরুর পর থেকেই স্থানীয়ভাবে চাপ ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দাবি, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি বিএনপি ও যুবদলের পরিচয়ে এসে কাজের অংশীদার হওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে নির্মাণসামগ্রী কেনারও প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু ঠিকাদার পক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নির্মাণসামগ্রী সংগ্রহ করায় সংশ্লিষ্টরা ক্ষুব্ধ হন।
ঠিকাদার আশরাফ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাতে সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ আড়ানী স্টেশনে এসে সাইট ম্যানেজারকে কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। এরপর শনিবার থেকে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে আড়াই কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছি। এখন কাজ বন্ধ থাকলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হবে, পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হবে।”
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ বলেন, “রেললাইনের সংস্কারকাজ বন্ধ থাকলে ট্রেন চলাচলের শিডিউল বিপর্যয়সহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এমপি আবু সাঈদ চাঁদের ব্যক্তিগত সহকারী জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “এমপি কোনোভাবেই কাজ বন্ধের নির্দেশ দেননি। বরং কাজ যেন সঠিকভাবে হয়, সে বিষয়েই কথা বলা হয়েছে। এলাকার শ্রমিকদের কাজের সুযোগ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে মাত্র।”
এদিকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আহসান জাবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত জটিলতার সমাধান না হলে গুরুত্বপূর্ণ এ রেলপথের সংস্কারকাজ দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে পারে।


