
দেশের চলমান পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনে। নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনাগত বিষয় বিবেচনায় সমাবর্তন উপলক্ষে নির্ধারিত বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২১ ডিসেম্বর (রবিবার) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে জনপ্রিয় শিল্পী পড়শি ও ব্যান্ড শিরোনামহীন-এর পরিবেশনায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে সাংস্কৃতিক আয়োজন নিয়ে আলোচনা ও প্রস্তুতি থাকলেও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতার কারণে সমাবর্তনকে সম্পূর্ণ একাডেমিক ও আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় পরিসরের সাংস্কৃতিক আয়োজন নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই সমাবর্তনের গাম্ভীর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
সমাবর্তনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল ব্যাপক। বিশেষ করে প্রিয় শিল্পী ও জনপ্রিয় ব্যান্ডের পরিবেশনার খবরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান বাতিলের খবরে অনেক শিক্ষার্থী হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিল্পী পড়শী ও ব্যান্ড শিরোনামহীন-এর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে পরিবেশনায় অংশ নিতে আগ্রহী ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সন্ধ্যার পর নির্ধারিত বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত জানালে, তারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়টি স্থগিত করেন।
একজন গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থী বলেন, “সমাবর্তন আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। পড়শি ও শিরোনামহীন-এর পরিবেশনা হবে জেনে আমরা খুব আনন্দিত ছিলাম। শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হওয়ায় মন খারাপ লাগছে।”
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “চার-পাঁচ বছরের পড়াশোনার পর সমাবর্তনের দিনে একটু আনন্দের আয়োজন থাকলে ভালো লাগত। তবে দেশের পরিস্থিতির কথা ভেবে সিদ্ধান্তটা মেনে নিচ্ছি।”
তবে কেউ কেউ মনে করছেন, একাডেমিক মর্যাদা বজায় রাখার জন্য এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক শিক্ষার্থী বলেন, “সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান না থাকলেও ডিগ্রি অর্জনই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।”
উল্লেখ্য, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনে বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। সাংস্কৃতিক আয়োজন না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এই সমাবর্তন শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গৌরবময় অধ্যায় হয়ে থাকবে। তবে অনেক শিক্ষার্থীর কাছে প্রত্যাশিত আনন্দের অভাবে দিনটি কিছুটা অসম্পূর্ণই থেকে গেল।


