
রাজশাহীর সীমান্তবর্তী গোদাগাড়ী উপজেলায় মাদক কারবারের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবৈধ ব্যবসার কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের মতে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র মাদক পাচার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে গোদাগাড়ী পৌরসভার জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের মাদক কারবার, প্রভাব বিস্তার, জমি দখল ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমানের পরিবারের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর আলম ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে এবং প্রায় ১০ বিঘা জমি জবরদখল করে রেখেছে। জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় বেশ কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে। র্যাব-৫ গোপালপুরএলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালিয়ে ১৮৮ গ্রাম হেরোইনসহ দুইজনকে আটক করে। আটককৃতরা সীমান্ত থেকে মাদক সংগ্রহ করে রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করত বলে জানিয়েছে র্যাব। এ ঘটনায় গোদাগাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া চলতি বছর কাঁকনহাট এলাকায় ১,০০০ পিস ইয়াবাসহ একজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত কয়েক মাসে গোদাগাড়ীতে একাধিক অভিযানে কয়েক কেজি হেরোইন, ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক উদ্ধার হয়েছে। সীমান্তবর্তী হওয়ায় ভারত থেকে মাদক প্রবেশের রুট হিসেবে গোদাগাড়ীকে ব্যবহার করছে চক্রগুলো।
রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাইমুল হাছান বলেন, “গোদাগাড়ীসহ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক নির্মূলে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেলে যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী—তিনি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন—তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জমি দখল, হয়রানি ও মাদকের অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, মাদকের ছড়াছড়ির কারণে শিক্ষার্থী ও যুবকদের মধ্যে আসক্তি বেড়েছে। অনেক পরিবার ভেঙে যাচ্ছে। সীমান্ত পথে অবাধে মাদক ঢোকার অভিযোগ তুলে তারা নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, চেকপোস্ট বৃদ্ধি এবং অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাদক নির্মূলে শুধু অভিযান নয়, সামাজিক সচেতনতা, যুবকদের কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন কর্মসূচি জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা কর্তৃপক্ষ বলেছেন, সকল অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।


