
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেছেন, ‘বাংলাদেশের যে মেরুদণ্ডহীন শিক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান, তা ভারতের প্রেসক্রিপশন ও ব্রিটিশ আমলের শিক্ষা কাঠামোর ভিত্তিতে গঠিত হয়েছে। এই শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে স্বদেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে আমাদের মুক্তির পথ বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডাকসু ভিপি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো জনগণের প্রকৃত মুক্তি আসেনি। এই মুক্তি না আসার মূল কারণ দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা। আমাদের যে শিক্ষাদর্শন অনুসরণ করার কথা ছিল, তা আমরা বাস্তবায়ন করতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পরও ব্রিটিশ আমলের রেখে যাওয়া শিক্ষা কাঠামোই বহাল রয়েছে, যা ভারতের প্রেসক্রিপশনে দাঁড় করানো হয়েছে। এতে অনেকেই গ্রাজুয়েট হয়েও প্রকৃত অর্থে দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না এবং গ্রাজুয়েট হয়েও অসৎ পথ অবলম্বন করতে কুণ্ঠাবোধও করে না।’
ভিপি সাদিক কায়েম আরও বলেন, ‘ইসলামী ছাত্রশিবিরের মূল লক্ষ্য হলো সৎ, জাতীয়তাবাদী ও স্বদেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করা। জুলাই বিপ্লবের পর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য সংগঠনটি ৩০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আপনারা দেখতে পাবেন, ইসলামী ছাত্রশিবির বিভিন্ন সায়েন্স ফেস্ট আয়োজন করছে, শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা দিতে শিক্ষামূলক কর্মশালা ও সেমিনার করছে—যা মূলত রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আগামী বছরের জন্য ইসলামি ছাত্রশিবির যে প্রকাশনা তৈরি করেছি, তাতে কৃষি থেকে শুরু করে আধুনিক বিজ্ঞান, রোবোটিকসসহ প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার বিভিন্ন ধারণা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ইন্টারিম সরকার এখনো এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিচ্ছে না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।


