
রাজশাহীর পুঠিয়ায় জমি ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে দুই পক্ষ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজশাহী নগরীতে সংবাদ সম্মেলন করে মোসাঃ বিউটি খাতুন তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি, হামলা, জমি দখলের চেষ্টা, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

বিউটি খাতুন লিখিত বক্তব্যে দাবি করেন, ২০২২ সালে আত্মীয়ের অনুরোধে ফয়জুন নেছা বৃষ্টিকে আশ্রয় দেওয়ার পর বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বৃষ্টি ও তার পরিবারের অনুরোধে ৭ লাখ টাকা ধার দেওয়া হলেও তা ফেরত না পেয়ে দায়ের হওয়া একটি মামলায় তিনি সাক্ষী হন। এরপর থেকেই তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মিথ্যা মামলায় জড়ানো, চাকরি নষ্ট, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফজলুল বারী দুলু, উজ্জ্বল, মুন, পলাশ, সাত্তার, রনি, ইয়াসমিন, কামরুল, বৃষ্টিসহ কয়েকজন তাকে ও তার পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করছেন। পাশাপাশি প্রতিবেশী সুফিয়া বেগমের পরিবারের সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত বছরের ১০ জুন হামলার শিকার হয়ে তিনি ও তার স্বামী আহত হন বলে দাবি করেন। এ ঘটনায় একটি মামলা চলমান রয়েছে এবং ঘটনার পরও বিভিন্নভাবে হুমকি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিউটি খাতুন তার দাদি শাশুড়ি শহর বানুকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। তিনি দাবি করেন, এর আগে তার বিরুদ্ধে আয়োজিত দুটি সংবাদ সম্মেলনে যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, সেগুলোও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অন্যদিকে শহর বানু অভিযোগ করেন, অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তার বড় ছেলে আলম জোরপূর্বক টিপসই নিয়ে তার নামে থাকা তিন কাঠা জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন। তার মেয়ে সুফিয়া বেগমের দাবি, মায়ের শেষ সম্বল ওই জমি কৌশলে দখল করা হয়েছে। জমি ফেরত চাইতে গিয়ে তারা হামলা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মুক্তি খাতুন বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তারাই দীর্ঘদিন ধরে হামলা, ভয়ভীতি ও মিথ্যা অপপ্রচারের শিকার। গত ১০ জুন প্রতিপক্ষের হামলায় তার শাশুড়ি সুফিয়া বেগম গুরুতর আহত হন এবং এ বিরোধে রাজশাহী বিজ্ঞ আদালতে ও উপজেলা ভূমি অফিসে মামলা চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, আইনের প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে, তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হচ্ছে।
আত্মীয়ের অনুরোধে আশ্রয় এবং বিরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে ফয়জুন নেছা বৃষ্টি বলেন, বিউটি খাতুন তার গর্ভধারিণী মা। তার বিরুদ্ধে আনা মাদকাসক্তিসহ সব অভিযোগ মিথ্যা। অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে যে কোনো শাস্তি মেনে নেবেন বলেও তিনি দাবি করেন।
বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক দুলাল বলেন, বিষয়টি পারিবারিক বিরোধ। তিনি কয়েকবার উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেছেন।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


