
রাজশাহীর তানোরে গির্জায় আদিবাসী শিশু ধর্ষণ মামলায় আদালতের রায়ের প্রতিবাদ এবং চারঘাটে সাত বছরের আদিবাসী শিশু ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন আদিবাসী নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় আদিবাসী জনগোষ্ঠী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সারাদেশে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে আদিবাসী যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে জাতীয় আদিবাসী যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি যাদু কুমার দাস বলেন, ২০২০ সালে রাজশাহীর তানোর উপজেলার একটি গির্জার ভেতরে এক আদিবাসী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত ১২ জুলাই আদালত অভিযুক্তের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এ রায়ে তারা গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মামলাটি নিরপেক্ষভাবে পুনঃতদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বক্তারা বলেন, গত ৮ জুলাই রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় সাত বছরের এক আদিবাসী শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ওই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হলেও বিচার কার্যক্রমে প্রত্যাশিত গতি নেই বলে অভিযোগ করেন তারা। দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, বিচার বিলম্বিত হলে ভুক্তভোগী পরিবার এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থার সংকট আরও বাড়বে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী মহানগর সভাপতি ছোটন সরদার, আদিবাসী সমাজকর্মী মেরিনা হাঁসদা, প্রমিলা কিস্কু, চারঘাটের ভুক্তভোগী শিশুর মা ঋতু রানী দাস এবং এডওয়ার্ড মারান্ডিসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, আদিবাসী নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, তাদের বিভিন্ন সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং আদিবাসীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানান তারা।
তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তানোর ও চারঘাটের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে আদিবাসী যুব পরিষদের নেতৃত্বে সারাদেশে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে মানববন্ধন শেষে বক্তারা বলেন, আদিবাসী নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ধর্ষণসহ সব ধরনের সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আদিবাসীদের নিরাপত্তা জোরদার, তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং এসব অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্নের লক্ষ্যে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানান তারা। অন্যথায় ন্যায়বিচারের দাবিতে সারাদেশে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। পরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হয়।


