
ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে আবারও পানি বাড়তে শুরু করেছে। টানা কয়েক দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় সোমবার সকালে রাজশাহী পয়েন্টে পানির উচ্চতা পৌঁছেছে ১১ দশমিক ০৮ মিটার (এমএসএল), যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। তবে পানি এখনো বিপৎসীমার প্রায় ৭ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যার শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
এদিকে সোমবার (১৩ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মা নদীর বুকে জেগে ওঠা ছোট চরগুলোতে পানি উঠতে শুরু করেছে।

পদ্মার পানিতে ডুবছে চর, স্বাভাবিক বলছে পাউবো
রাজশাহী পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গেল জুন মাসের শেষের দিক থেকে রাজশাহীর পদ্মায় পানি বাড়তে থাকে। সর্বশেষ গত শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ৯টায় পদ্মার পানি ছিল ১০ দশমিক ৫৩ সেন্টিমিটার। তার এক সপ্তাহের মাথায় পদ্মার পানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৯ সেন্টিমিটারে। ৭ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত পদ্মার পানি প্রবাহিত হয়েছে ১০ দশমিক ৩৪ সেন্টিমিটার। এই দিনগুলোতে শূন্য দশমিক ৩ সেন্টিমিটার কমে পদ্মার পানি প্রবাহিত হয়। তবে ১০ জুলাই থেকে ফের বাড়তে থাকে পদ্মার পানি। ওইদিন সকাল ৯টায় পদ্মার পানি প্রবাহিত হয়েছে ১০ দশমিক ৪১ সেন্টিমিটারে।
এছাড়াও শনিবার (১১ জুলাই) রাজশাহী পয়েন্টে ১০ দশমিক ৫৯ সেন্টিমিটার পদ্মার পানি প্রবাহিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৯টায় রাজশাহী নগরীর টি-বাঁধ এলাকায় পদ্মার পানি পরিমাপ করে দেখা গেছে ১০ দশমিক ৯০ সেন্টিমিটার।
পানির উচ্চতা বাড়ার প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে নদীর বুকে জেগে ওঠা ছোট ছোট চরে। চর খিদিরপুরের বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে নদীর পানি বাড়ছে। এতে ছোট চরগুলো তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। তাই চরাঞ্চলের মানুষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের আহাদ বলেন, বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানি বাড়া স্বাভাবিক ঘটনা। বর্তমানে মাঝনদীর ছোট চরগুলো পানির নিচে যাচ্ছে, তবে নদীর পানি এখনো তীর থেকে অনেক দূরে রয়েছে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তিনি বলেন, আগের তুলনায় চরাঞ্চলের মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। প্রয়োজন হলে তারা সময়মতো নিরাপদ স্থানে সরে যাবেন।
নগরীর ২৯ নং ওয়ার্ডের গাবতলী পাটুলিঘাটের নৌকার মাঝি জিয়া বলেন, নতুন পানির সঙ্গে প্রচুর কচুরিপানা ভেসে আসছে। এটি সাধারণত উজানের ঢল নামারই লক্ষণ। তাঁর ভাষায়, আষাঢ়ের শেষ ভাগ থেকে শ্রাবণ মাসজুড়ে পদ্মার পানি আরও বাড়ার প্রবণতা থাকে। পদ্মাপাড়ের চর খানপুর এলাকার বাসিন্দা ইমরান বলেন, বর্ষা মৌসুমেই মূলত এভাবে কচুরিপানা ভেসে আসে। এটিও নদীতে পানি বৃদ্ধির একটি স্বাভাবিক চিত্র।
গত বছরের আগস্টে পদ্মার পানি ১৭ দশমিক ৪৩ মিটারে পৌঁছেছিল। তখন রাজশাহীর তালাইমারী, কাজলা, পঞ্চবটীসহ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয় এবং প্রায় ১০০টি পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়। তবে এবার পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের শহর রক্ষা শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু হুরায়রা কালবেলাকে জানান, উজানের ঢলের কারণে পদ্মার পানি ধীরে ধীরে বাড়ছে। সোমবার সকালে রাজশাহী পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১১ দশমিক ০৮ মিটার (এমএসএল) রেকর্ড করা হয়েছে। রাজশাহীতে পদ্মার বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার। অর্থাৎ বর্তমানে পানি বিপৎসীমার প্রায় ৬ দশমিক ৯৭ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই আপাতত বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


