
ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির অনৈক্য বাংলাদেশের জন্য অতুলনীয় ক্ষতি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক ও মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস্ কমপ্লেক্সে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মঞ্চ ২৪, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ, জিএস সালাউদ্দিন আম্মার, মঞ্চ ২৪-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজীবসহ মঞ্চ ২৪-এর বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে যেন পুনরায় ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তারা দেশে ফ্যাসিবাদের সূচনা, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংঘটিত অন্যায়, অত্যাচার ও দমন-পীড়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
রাকসু ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “আমরা পরস্পরের দোষারোপ করে রাজনীতি করতে চাই না। ৫ তারিখের আগে যেভাবে আমরা একসঙ্গে বসে কর্মসূচি ঠিক করতাম—পরের দিন কোন রাস্তায় মিছিল হবে, সামনের সারিতে কে থাকবে, পেছনের সারিতে কারা থাকবে, স্লোগান কে দেবে—সবকিছু আমরা একসঙ্গে নির্ধারণ করতাম। ঠিক একইভাবে আমরা আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদকে প্রতিরোধ করব।”
তিনি আরও বলেন, “আজ আমি এখানে জুলাইয়ের উত্তপ্ত বারুদগুলো আপনাদের মাঝে দেখতে পাচ্ছি। ফ্যাসিস্ট লীগ যদি মনে করে জুলাইয়ের শক্তি নিভে গেছে, তাহলে তারা ভুল ভাবছে। জুলাইয়ের শক্তি এখন সুপ্ত আগ্নেয়গিরির মতো বিদ্যমান। প্রয়োজন হলে ফ্যাসিবাদ রুখতে তা আবারও উত্তাল আগ্নেয়গিরিতে রূপান্তরিত হবে।”
জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির অনৈক্য বাংলাদেশের ক্ষতির একমাত্র কারণ নয়, আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। তবে আমরা বলতে পারি, বিরোধী শক্তির অনৈক্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর একটি।”
তিনি মনে করেন, আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ দাবি করা এবং ঢাকাকেন্দ্রিক সিন্ডিকেট ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির অনৈক্যের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, “আন্দোলনের কৃতিত্ব ভাগাভাগির সময় থেকেই ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির মধ্যে ফাটল দেখা দিতে শুরু করে।”
তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ফ্যাসিবাদবিরোধী বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়ার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, “২৯ তারিখে সর্বপ্রথম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই কারফিউ ভঙ্গ করে। অথচ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই অবদান আন্তর্জাতিক পর্যায় তো দূরের কথা, জাতীয় পর্যায়েও যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি।”
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে আরও বলেন, “সর্বপ্রথম কারফিউ ভাঙার ঘটনাটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রামাণ্যচিত্র থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে।” বক্তব্যের শেষদিকে তিনি লীগের প্রশ্নে কোনো ছাড় না দেওয়ার আহ্বান জানান।
মঞ্চ ২৪-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী বলেন, “মঞ্চ ২৪ জামায়াত-শিবির, বিএনপি, ছাত্রদল কিংবা এনসিপির দালালি করার জন্য আসেনি। মঞ্চ ২৪ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য এসেছে। কেউ যদি বাংলাদেশে নতুনভাবে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়, সে যে দলই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে মঞ্চ ২৪ সংগ্রাম জারি রাখবে।
মঞ্চ ২৪ একটি প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করে। মঞ্চ ২৪ শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার দিক থেকে কীভাবে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা যায়, সেসব বিষয় নিয়ে কাজ করে।
সর্বশেষ তিনি মঞ্চ ২৪-এর বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের আশা ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন।”
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীরা ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


