
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বিধায়ক বৈঠক শেষ পর্যন্ত স্থগিত করতে হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আহ্বানে ৮০ জন বিধায়কের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বৈঠকে হাজির হন মাত্র ২০ জন। ফলে নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে পরে নতুন তারিখে বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার বিকালে কলকাতায় এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, দলের শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ এবং বিভিন্ন এলাকায় চলমান কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল।

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগের পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়। এরই মধ্যে দলীয় সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা করতেই বিধায়কদের নিয়ে এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
বৈঠক স্থগিত হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দলের নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, গতকালের ঘটনার পর বহু এলাকায় বিধায়করা সরাসরি আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়ে পড়েন। অনেক জায়গায় দলীয় কর্মীদের আটক করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কুণাল ঘোষের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই একের পর এক বিধায়ক দলের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
তারা বলেন, নিজেদের এলাকায় কর্মীদের পাশে থাকা, আটক কর্মীদের মুক্ত করার চেষ্টা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কারণে এই মুহূর্তে কলকাতায় আসা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিধায়করা নেতৃত্বকে আশ্বস্ত করেছেন যে তারা দলের সঙ্গে রয়েছেন এবং দলের যে কোনো নির্দেশ পালনে প্রস্তুত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকদিন সময় প্রয়োজন বলে তারা মত দিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল তিনটার কিছু আগে পরিস্থিতি বিবেচনা করে বৈঠক সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেসব বিধায়ক ইতোমধ্যে উপস্থিত হয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করা হলেও আনুষ্ঠানিক বৈঠক আর অনুষ্ঠিত হয়নি।
রাজনৈতিক মহলে অবশ্য এই ঘটনাকে ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা বৈঠকে কম উপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটি সাংগঠনিক দুর্বলতার কোনো ইঙ্গিত নয়। বরং রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণেই অধিকাংশ বিধায়ক উপস্থিত থাকতে পারেননি।


