
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে পুনর্মূল্যায়ন এবং সংশোধিত ফল প্রকাশের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের দাবি, রাজশাহী শহরের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের ২৩৮ শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশ না হওয়া শুধু অস্বাভাবিকই নয়, বরং ফল প্রস্তুতিতে বড় ধরনের কারিগরি বা প্রশাসনিক ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আনোয়ার হোসেনের কাছে জমা দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অভিভাবক ড. আজিবর রহমান। তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল দেশজুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। ফলাফলের বিভিন্ন অসঙ্গতির কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে আঘাত লাগার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থাও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
তিনি বলেন, বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেজাবিন বর্ণ বলেন, আমি অনেক ভালো পরীক্ষা দিয়েছি। খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হলে আমি বৃত্তি পাব বলে আশা করি। তাই উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।
কর্মসূচি থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ফলাফলের সব অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজন হলে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে দ্রুত সংশোধিত ফল প্রকাশ, কারিগরি বা প্রশাসনিক ত্রুটিতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ফলাফল প্রণয়ন ব্যবস্থা চালু, গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে শিক্ষক-অভিভাবকদের অবহিত করা, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংশোধিত ফল প্রকাশ।
অভিভাবকদের অভিযোগ, রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া ১১টি বিদ্যালয়ের ২৩৮ শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশ হয়নি। বিস্ময়করভাবে ওই কেন্দ্রের একজন শিক্ষার্থীর নামও বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় নেই। এতে ফল প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ত্রুটি হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, আমাদের কেন্দ্রে ১১টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, একজন শিক্ষার্থীরও নাম তালিকায় নেই। বিষয়টি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারহানা খাতুন বলেন, এবার আমাদের অত্যন্ত ভালো একটি ব্যাচ ছিল। একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি না পাওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। নিশ্চয়ই কোথাও বড় ধরনের সমস্যা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে বৃত্তি পরীক্ষায় নিবন্ধিত ১৩ হাজার ১৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ হাজার ৮৩ জন অংশ নেয়। তাদের মধ্যে বৃত্তি পেয়েছে ১ হাজার ৯০৯ জন। তবে একটি কেন্দ্রের ২৩৮ শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশ না হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আনোয়ার হোসেন কালবেলাকে জানান, বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত আবেদন পাওয়া যাচ্ছে। আবেদনগুলো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, এতগুলো উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। যেহেতু এবার প্রথমবারের মতো ওএমআর পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তাই ফল প্রস্তুতের সময় কারিগরি ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


