
রাজশাহীর পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের একটি পরিত্যক্ত কক্ষ সংস্কার করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন লাইব্রেরিতে রূপান্তর করা হয়েছে। পুঠিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস, জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীল বিকাশে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।
গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে লাইব্রেরিটির উদ্বোধন করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান। উদ্বোধন শেষে অতিথিরা লাইব্রেরি পরিদর্শন করে এর পরিবেশ, বইয়ের সংগ্রহ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত একটি কক্ষ সংস্কার করে সেখানে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশে লাইব্রেরিটি গড়ে তোলা হয়েছে। এতে পাঠ্য ও রেফারেন্স বইয়ের পাশাপাশি সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস, জীবনী, শিশু-কিশোর উপযোগী গ্রন্থ এবং বিভিন্ন সাময়িকী সংযোজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনার জন্য আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, নান্দনিক বুকশেলফ এবং একটি ডিজিটাল কর্নারও স্থাপন করা হয়েছে। ফলে তারা পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে জ্ঞানবর্ধক বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষার্থীদের কেবল পরীক্ষামুখী শিক্ষা নয়, বরং জ্ঞাননির্ভর, সৃজনশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। লাইব্রেরি চালুর পর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অভিভাবকরাও। তাদের মতে, একটি সমৃদ্ধ ও আধুনিক লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তুলবে এবং তাদের মেধা ও চিন্তাশক্তির বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
পুঠিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ বলেন, “একসময়ের অবহেলিত একটি পরিত্যক্ত কক্ষ আজ জ্ঞানের আলোকবর্তিকায় পরিণত হয়েছে। পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও পাঠাভ্যাস বিস্তারে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, বিদ্যালয়ভিত্তিক আধুনিক ও পাঠবান্ধব লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা শিক্ষার্থীদের বইমুখী করে তোলার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এ উদ্যোগ দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।


