
রাজশাহী মহানগরীতে আলোচিত দুইটি ক্লু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। পৃথক অভিযানে গোলাম মোস্তফা হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২০ এপ্রিল) আরএমপির সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, মতিহার থানা এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফার সঙ্গে আসামিপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও একাধিক মামলা চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৭টার দিকে এশার নামাজ আদায়ের জন্য বাড়ি থেকে বের হন গোলাম মোস্তফা। খোঁজাপুর এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী নাজেরা বেগম মতিহার থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলমাস আল রাজীর নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে ডাঁশমারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি হাসিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, পূর্বশত্রুতা ও মামলার জের ধরেই গোলাম মোস্তফাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে গ্রেপ্তারকৃত আসামি।
এদিকে, গত ২ মে দামকুড়া থানা এলাকায় অটোরিকশাচালক মামুনুর রশিদ হত্যা মামলায় আরও ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে গাজিউর রহমান আরও বলেন, রাজশাহী শান্তির নগরী। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরএমপির সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করছে। তিনি জানান, কিশোর গ্যাং সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


