
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিস্থ যমুনা সার কারখানায় ১৩ দিন ধরে ১৬০ জন দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকের কর্মস্থলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে কারখানার বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কারখানা প্রশাসনের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুন সকালে একদল বহিরাগত শ্রমিকদের কারখানায় প্রবেশে বাধা দেয়। শ্রমিকদের মৌখিক অভিযোগের পর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা শাখার মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ জুন যমুনা সার কারখানা কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) কর্মচারী প্রধানের কাছে একটি পরিস্থিতি প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কারখানার প্রধান ফটক থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে কলোনি গেট, বাজারসংলগ্ন এলাকা, ইসলামী ব্যাংক মোড় ও ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নিয়ে কয়েকজন বহিরাগত শ্রমিকদের কর্মস্থলে যেতে বাধা দেন। অভিযুক্তদের মধ্যে ডুরিয়ারভিটা গ্রামের মোতালেব, মঞ্জু ও ভোলা, চেচিয়াবাধা গ্রামের মিলন এবং কান্দারপাড়া গ্রামের মুক্তিল, আজাদ, সেজনু, খসরু, জুলহাস, বজলু ও শাহীনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
কারখানার সিবিএর সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ তালুকদার বলেন, গত দুই বছর ধরে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত শ্রমিকরা দৈনিক মজুরিভিত্তিক কাজ করেছেন। এ কারণে তাদের কারখানায় না যেতে বলা হয়েছে। তবে মারধরের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যমুনা সার কারখানা কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, শ্রমিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন বিসিআইসির কর্মচারী প্রধানের কাছে পাঠানো হয়েছে।


