
এক বছরের ব্যবধানে সরকারের মোট ঋণ বেড়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৯২ কোটি টাকা। ফলে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সরকারের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। এক বছর আগে, অর্থাৎ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

ঋণের গঠনচিত্র
অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের মোট পুঞ্জিভূত ঋণের ৫৬ শতাংশ অভ্যন্তরীণ এবং অবশিষ্ট ৪৪ শতাংশ বৈদেশিক।
ব্যাংক খাতে ঋণ বৃদ্ধি
অভ্যন্তরীণ ঋণের চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের গৃহীত ঋণের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি। ২০২৫ সালের জুন শেষে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের পুঞ্জিভূত ঋণের স্থিতি ছিল ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা।
ব্যাংক-বহির্ভূত খাতে চিত্র
অন্যদিকে ব্যাংক-বহির্ভূত খাত থেকে গৃহীত পুঞ্জিভূত ঋণের স্থিতি সামান্য কমেছে। ২০২৫ সালের জুন শেষে এ খাতে সরকারের ঋণ ছিল ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা।
ঋণঝুঁকি নিয়ে অবস্থান
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারের মোট ঋণ বাড়লেও তা এখনো ঝুঁকিসীমার নিচে রয়েছে। বৈদেশিক ও সামগ্রিক ঋণঝুঁকির ক্ষেত্রে দেশ বর্তমানে ‘নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থানে আছে। তবে ঋণ-জিডিপি অনুপাত এখনো সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও তা ধীরে ধীরে বাড়ছে।
এদিকে বৈদেশিক ঋণ-রফতানি অনুপাত ১৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং রফতানির তুলনায় এর মূলধন ও সুদ পরিশোধের চাপ ভবিষ্যতে বৈদেশিক ঋণের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে রাজস্ব আহরণ বাড়িয়ে অর্থের জোগান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


