
আব্দুল্লাহ আল শামস, দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় সরকারি ভিজিএফের চাউলের কার্ড চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধা ও তার পুত্রবধূকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, উপজেলার ৭ নম্বর জয় নগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্মপুর গ্রামে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিএনপির স্থানীয় নেতা সুলতান (৪৫) ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের চাউলের কার্ড প্রস্তুতের কাজ করছিলেন। এ সময় মোছাঃ আলিমন বেগম (৬৫) তার নিকট একটি কার্ড চাইলে কথাকাটাকাটির সূত্রপাত হয়।
ভুক্তভোগী আলিমন বেগম অভিযোগ করেন, কার্ড চাইলে তাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, “তোরা সবাই জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিয়েছিস, তোর নাতিরা জামায়াতের টোকেন বিতরণ করেছে। তোরা এই কার্ড পাবি না।” একপর্যায়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হলে তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এ সময় তার পুত্রবধূ মোছাঃ রেশমা বেগম (২৬) শাশুড়িকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তার হাতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং কেটে যায় বলে জানা গেছে।
পরে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় আহত দুই নারীকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সময় উপস্থিত না থাকলেও পরে হাসপাতালে গিয়ে স্ত্রী ও মায়ের অবস্থা দেখেন রেশমা বেগমের স্বামী। তিনি বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। পরে এসে দেখি তারা হাসপাতালে ভর্তি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।


