
রাজশাহীতে সারের বরাদ্দ নিয়ে ডিলারদের প্রশ্ন, ৭ দফা দাবি
রাজশাহীতে কৃষকের সংখ্যা চার লাখ ১২ হাজারের বেশি। অথচ সেপ্টেম্বর মাসে পুরো জেলার জন্য টিএসপি সারের বরাদ্দ হয়েছে মাত্র এক হাজার ৪৫ মেট্রিক টন। প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি হিসাবে এই পরিমাণ সার দিয়ে এক বস্তা করে দেওয়া হলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ৯০০ কৃষককে দেওয়া সম্ভব। অর্থাৎ জেলার মোট কৃষকের মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ এই বরাদ্দের আওতায় আসবেন। কৃষকের প্রকৃত চাহিদার তুলনায় সারের এমন অপ্রতুল বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) রাজশাহী জেলা ইউনিট।

রোববার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টায় নগরের রেলগেট এলাকার সংগঠনটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিএফএ রাজশাহী জেলা ইউনিটের সভাপতি মো. ওছমান আলী।
গুদামে সার আছে, বরাদ্দে ঘাটতি
মো. ওছমান আলী বলেন, রাজশাহীতে সরকারি গুদামে সারের মজুত নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। বাফার ও বিএডিসির গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। তবে কৃষকের চাহিদার সঙ্গে সরকারি বরাদ্দের সামঞ্জস্য না থাকায় ডিলার পর্যায়ে চাপ তৈরি হচ্ছে। প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতে বরাদ্দ বাড়ানো না হলে মাঠপর্যায়ে সংকট তৈরি হতে পারে।
বিএফএর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে রাজশাহী জেলায় টিএসপি এক হাজার ৪৫ মেট্রিক টন, এমওপি এক হাজার ৬২৯ মেট্রিক টন এবং ডিএপি তিন হাজার ১৫ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলায় আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় এক লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর।
সংগঠনটির নেতারা জানান, বর্তমান বরাদ্দ কৃষকদের মধ্যে সমানুপাতিক হারে ভাগ করলে একজন কৃষকের ভাগে আনুমানিক ২ দশমিক ৫ কেজি টিএসপি, ৪ কেজি এমওপি ও ৭ কেজি ডিএপি পড়ে। তাঁদের মতে, কৃষকের প্রকৃত চাহিদা ও আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে সার বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি।
এ জন্য সাত দফা দাবি জানিয়েছে বিএফএ। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—কৃষকের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ বৃদ্ধি, সংকটপূর্ণ এলাকায় দ্রুত উপ-বরাদ্দ, মাছ চাষের পুকুরের জন্য সার বরাদ্দ, ডিলারদের কমিশন পুনর্নির্ধারণ এবং কৃষকদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সার ব্যবহারে পরামর্শ দেওয়া।
রাজশাহীতে বিসিআইসির ৮৬ জন ও বিএডিসির ১৩০ জনসহ মোট ২১৬ জন সার ডিলার রয়েছেন। এর বাইরে ৪৭৫ জন কার্ডধারী খুচরা বিক্রেতা সার বিতরণের সঙ্গে যুক্ত।
ডিলারদের দাবি, তাঁরা সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলন করে নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছেন। কোনো ডিলার অনিয়ম করলে তার দায় পুরো ডিলার সমাজের ওপর চাপানো উচিত নয়।
গুজবে আতঙ্ক, আগাম সার মজুতের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সার নিয়ে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেন ডিলার নেতারা। তাঁদের ভাষ্য, এসব তথ্যের কারণে কৃষকদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। প্রয়োজনের আগেই কেউ কেউ সার কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। আগামী নভেম্বরের আলু ও পেঁয়াজ চাষকে কেন্দ্র করেও এখন থেকেই সার সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
ডিলার নেতারা আরও বলেন, অনেক কৃষক কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শের তুলনায় বেশি সার ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে সারের চাহিদা অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাড়ছে, অন্যদিকে জমির উর্বরতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই কৃষকদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সার ব্যবহারের বিষয়ে কৃষি বিভাগের কার্যকর পরামর্শ প্রয়োজন।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর পুকুরে মাছ চাষ হয়। এসব পুকুরের জন্যও সার বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বিএফএ।
সংবাদ সম্মেলনে ডিলাররা বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রিতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। বর্তমানে ইউরিয়া ও টিএসপি প্রতি বস্তা এক হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি এক হাজার ৫০ টাকা এবং এমওপি এক হাজার টাকা দরে বিক্রির জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল গণি, নির্বাহী সদস্য সাইদুর রহমান ভুট্টো, লাল মোহাম্মদ সরদারসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


