
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আদিবাসী শিশুদের ভর্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে তিনি উপজেলার রায়ঘাটি আদিবাসীদের অভিযোগ ও সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
এ সময় আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা রূপা, জোসনা, মিঠু ও তপন অভিযোগ করেন, তাদের ছেলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে গেলে ফেল করার ভয় দেখানোর কারণে তারা বিব্রত হয়ে অনেক সময় সন্তানদের ভর্তি করাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তাদের দাবি, অতীতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ফেল করায় পরবর্তীতে ভর্তি নিয়ত অনীহা দেখানো হয়েছে বলে তারা মনে করেন। তারা আরও জানান, ইউএনও স্যার আশ্বস্ত করে ভর্তি-ইচ্ছুক শিশুদের একটি তালিকা দেয়ার কথা বলেছেন । প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভর্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কেশরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুরশিদা খাতুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। সকল শিশুদের সমান অধিকারের ভর্তি নেয়া হয়। ইতোপুর্বে আমার আদিবাসী অনেক ছাত্র পাস করে চলে গেছে। তারা এখন বড় হয়েছে এবং তাদের ছেলে মেয়েকে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি করায়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে দুইজন এবং প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে দুইজন আদিবাসী শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ভবিষ্যতেও কেউ ভর্তি হতে চাইলে নিয়ম অনুযায়ী তাদের ভর্তি নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে দুইজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় তাদের উপরের শ্রেণিতে উন্নীত করা সম্ভব হয়নি। পরে তারা অন্যত্র চলে যায়। বিদ্যালয়ে নিয়মনীতি মেনেই পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের কারণে বিদ্যালয়টিতে ভর্তির অনেক চাপও রয়েছে।
এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, “আমি কেশরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রায়ঘাটি আদিবাসী পাড়া পরিদর্শন করেছি। আদিবাসী পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য শুনেছি। আমি তাদের বলেছি, আগে যেসব ছেলে-মেয়েকে ওই বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছিলেন এবং বর্তমানে যাদের ভর্তি করাতে চান, তাদের একটি তালিকা আমাদের দিন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভর্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


