
স্টাফ রিপোর্টার: রাকিবুল ইসলাম
রাজশাহীর মোহনপুর ও পবা উপজেলায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধা ও উদ্ভাবনী চিন্তাধারাকে উৎসাহিত করতে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’। ১২ জুন ২০২৬ শুক্রবার দুই উপজেলায় যৌথভাবে উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন উভয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মোহনপুর উপজেলা অডিটোরিয়াম ও পবা উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা পরিবেশ সংরক্ষণ, স্মার্ট প্রযুক্তি, কৃষি উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং দৈনন্দিন সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান নিয়ে নানা উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। ‘মেধা-বিজ্ঞান উদ্ভাবনে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন শিক্ষার্থীদের প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং তাদের সৃজনশীল প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে পারলে আগামী দিনের স্মার্ট, জ্ঞানভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনজীবনের উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কর-শুল্ক কমানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। “ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও জ্ঞানচর্চার উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারলে শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা। জোবায়দা সুলতানা বলেন, “তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তিই দেশের ভবিষ্যৎ। শিক্ষার্থীদের নতুন চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে হবে।” মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শামিমুল ইসলাম মুন ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব অর রশীদসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
পবা উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ১২টি স্টল উপস্থাপন করে। ‘স্টার্টআপ’ ক্যাটাগরিতে নওহাটা ছালেহিয়া দারুচ্ছুন্নাত ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাটি ও বাঁশ দিয়ে তৈরি মাথাল, ঝাঁকা, মাটির থালা, কাপ-ফ্রিজসহ পরিবেশবান্ধব পণ্য প্রদর্শন করে। ‘বিজ্ঞান প্রকল্প’ ক্যাটাগরিতে বাগধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদর্শন করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ‘ইনোভেশন আইডিয়া’ ক্যাটাগরিতে মল্লিকপুর রণহাট কুখন্ডি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুষ্ক মৌসুমে কৃষি জমির জমে থাকা পানির ব্যবহার নিয়ে বাস্তবসম্মত ধারণা উপস্থাপন করে।
পবা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম মাহমুদ হাসান, একাডেমিক সুপারভাইজার আয়েশা নাজনীনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উভয় উপজেলায় নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ প্রকল্পগুলো জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা।
এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে তাদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা প্রশাসন ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন কর্মসূচি আয়োজনের আশ্বাস দিয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
এই উদ্যোগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম’-এর আওতায় বাস্তবায়িত হয়েছে। এতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। আয়োজকরা জানান, এমন প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা মনোভাব গড়ে তুলবে এবং দেশের উন্নয়নে তাদের ভূমিকা বাড়াবে।


