

আগামী ২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালন করা হবে। প্রতি বছর জাতিসংঘ এই দিনে বিশ্বব্যাপী মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব ও অবৈধ পাচারের বিরুদ্ধে সচেতনাতা বৃদ্ধির জন্য এই দিবসটি পালন করে থাকে। প্রতিরোধ ও মাদকাসক্তিমুক্ত দেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিবসটি পালিত হবে।
ডিএনসি সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে দেশে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ৪টি সরকারি এবং ৩৮৬টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এসব কেন্দ্রে ডিটক্সিফিকেশন, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাসেবা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, গ্রুপ ও ফ্যামিলি থেরাপি, পুনর্বাসন এবং পুনরায় সমাজে সম্পৃক্তকরণসহ সমন্বিত চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবনে ফিরিয়ে আনাই এসব কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, মাদক পাচারের আগ্রাসন রুখতে সীমান্তে কড়া নজরদারি রয়েছে বলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন।
ড. অরূপরতন আরো বলেন, মাদক প্রতিরোধে বর্তমান সরকারের যথেষ্ট দৃষ্টি রয়েছে এবং তা সঠিকভাবে পালন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দ্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষ কোনো বাহিনীকে এই দায়িত্ব দিতে পারলে ভালো হত। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন বাস্তবায়ন হলে মাদকের ছোবল থেকে যুব সমাজ রক্ষা পাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের শান্তির আওতায় আনতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এ ব্যাপারে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, মাদকের ছোবল থেকে সমাজকে রক্ষা করতে সর্বাত্মক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদকবিরোধী প্রচারণা চালাতে হবে। এছাড়া পারিবারিক সচেতনাতা ও ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে সন্তানদের মাদক থেকে বিরত রাখার জোর চেষ্টা করতে হবে অধ্যাপক সালমা আরো বলেন, সন্তানদের বিনোদনের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসার ঘটাতে হবে। প্রতিটি পরিবারের উচিত তাদের সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালনা করা।
তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে মাফিয়াদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ তারা মাদক ব্যবসার জন্য দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে।বিশিষ্টজনদের মতে, মাদকের ভয়াবহতায় যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মাদকের ছোবলে দেশ ও জাতির অনেক বড় ক্ষতি হচ্ছে। মাদকাসক্তরা নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সূত্র মতে, মাদকের আগ্রাসনে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।


