
আবুল কালাম আজাদ, বানেশ্বর ( রাজশাহী) প্রতিনিধি:
মুড়িকাটা পিঁয়াজজের শেষ সময়ে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজের দামে আকস্মিক দরপতন ঘটেছে। ১৪ মার্চ শনিবার সকালে রাজশাহীর বড় হাট বানেশ্বর বাজার ঘুরে দেখা যায় পাইকারি বাজারে পিঁয়াজের দাম চারশত থেকে সাতশত টাকা মণ হিসাবে বিক্রি হচ্ছে। এই দামে পিঁয়াজ বিক্রিতে কৃষকের তিন থেকে চারশত টাকা উৎপাদন খরচ লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন চাষি আঃ রব ।

পুঠিয়ায় মুড়িকাটা পেঁয়াজে দরপতনের ঝাঁঝে কৃষকের কান্না
তিনি বলেন, মৌসুমের শুরুতে ভালো দামের আশায় আবাদ করেছিলাম কিন্তু এখন বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছি ,আরো একবিঘা জমিতে পিঁয়াজ উঠাতে বাকি আছে। পেঁয়াজের এই ধরনের দরপতনের ঝাঁঝে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন অনেক কৃষক।
উপজেলার বানেশ্বর, ঝলমলিয়া, ধোপাপাড়া, ভালুকগাছি ও আশপাশের এলাকার হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা জমি থেকে পেঁয়াজ তুলে হাটে নিয়ে এলেও আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় ঈদ সপ্তাহে চিন্তার ভাঁজ কৃষকের কপালে। কৃষক ব্যবসায়ী বলেন সপ্তাহ আগেও যেখানে প্রতি মণ মুড়িকাটা পেঁয়াজ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছিল, বর্তমানে তা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে।
শিবপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “এবার ভালো ফলনের আশায় বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। কিন্তু বাজারে যে দাম, তাতে খরচই উঠছে না। বীজ, সার, সেচ, শ্রমিক—সবকিছুর দাম বেড়েছে। এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে। এভাবে যদি কৃষক পিঁয়াজের দাম না পায় তাহলে কৃষক ভবিষ্যতে পিঁয়াজের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলবে।”
আরেক কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, “হাটে পেঁয়াজ নিয়ে গেলে পাইকাররা কম দাম বলছে। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম জানান, একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ বাজারে আসায় সরবরাহ বেড়েছে। তাছাড়া আশপাশের জেলা পাবনা থেকে নতুন পেঁয়াজ বাজারে ঢুকতে শুরু করায় দাম কমে গেছে এতে আমরাও এই ব্যবসায়ে লাভোবান হতে পারছিনা।
কৃষকদের অভিযোগ, পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।
কৃষিবিদের আশঙ্কা, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী মৌসুমে অনেকেই পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন। এতে ভবিষ্যতে পেঁয়াজ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকবে।


