
দুর্নীতিমুক্ত, শোষণহীন ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ মানে আজাদি, আর না মানে গোলামী।’ ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জনগণের রায়ই হবে চূড়ান্ত শক্তি। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

তিনি আরো বলেন, এই দেশে পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি আর চলবে না। এই দেশে রাজনীতি হবে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে। রাজনীতি হবে দেশ প্রেম প্রমাণের মাধ্যমে। এই দেশে আর আধিপত্য রাজনীতি চলবে না। আমাদের প্রতিবেশিসহ বাইরের সমস্ত দেশের সাথে সম্পর্ক হবে সমতা এবং মর্যাদার ভিত্তিতে।
আমিরর জামায়াত বলেন, আমরা ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশে জামায়াত ইসলামের কোন সরকার চায় না। চাইনা কোন পরিবার তান্ত্রিক সরকার। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়ী চাই বলেও জানান তিনি।
জনসভায় তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার ব্যয়ভার রাষ্ট্র বহন করবে। প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, শিক্ষাই হবে জাতি গঠনের প্রধান হাতিয়ার।
রাজশাহী ডেন্টাল হাসপাতাল, রাজশাহী সুগার মিল এবং তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা বেকার ভাতা চায়নি, তারা চেয়েছে কাজের অধিকার।’ যুবসমাজকে আশ্বস্ত করে তিনি জানান, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে তরুণদের সঠিক শিক্ষা ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এরপর তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে যোগ্য ও সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ। শ্রমিকদের জন্য আলাদা করে বিশেষায়িত হাসপাতাল করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্য নয়, বরং যোগ্যতা ও দেশপ্রেমই হবে একমাত্র মাপকাঠি। একই সঙ্গে তিনি সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পর্যটন শিল্পের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে দেশের পর্যটন খাত আজ ধ্বংসের মুখে। ক্ষমতায় গেলে রাজশাহীর প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে তিনি জনগণকে বিভেদ ভুলে ইনসাফ ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। দুর্নীতিমুক্ত ও শোষণহীন বাংলাদেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার মধ্য দিয়েই জনগণের মুক্তি নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


