
স্টাফ রিপোর্টার:রাকিবুল ইসলাম
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের চান্দোপাড়ায় মসলার উন্নত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শনীর মাঠ দিবস ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে চান্দোপাড়া এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান। তিনি প্রদর্শনী মাঠ পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে চাষাবাদ, উৎপাদন বৃদ্ধি ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহিম।
এ সময় মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মতিনসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মাঠ দিবসে মসলাজাতীয় ফসলের উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি ও চাষাবাদের বিভিন্ন দিক কৃষকদের সামনে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে রোপা আমন ধানে সার প্রয়োগ, বস্তায় আদা চাষ, পেঁয়াজ সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং কৃষি-সংক্রান্ত প্রযুক্তি ও ‘খামার অ্যাপস’-এর ব্যবহার নিয়েও আলোচনা করা হয়।
কৃষি সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও উন্নত জাতের সম্প্রসারণ জরুরি। কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিতে হবে। এতে কৃষকরা নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে আরও উৎসাহিত হবেন এবং উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, “কৃষকদের প্রয়োজন ও মাঠের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করতে হবে। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে একই জমিতে অধিক উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মসলাজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে উন্নত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রদর্শনের মাধ্যমে কৃষকদের আগ্রহী করা এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ছড়িয়ে দেওয়াই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, মাঠ দিবসের মাধ্যমে উন্নত জাত ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে বস্তায় আদা চাষ, সার ব্যবস্থাপনা ও পেঁয়াজ সংরক্ষণের আধুনিক পদ্ধতি তাদের কৃষিকাজে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠান শেষে কৃষি সচিবসহ অতিথিরা প্রদর্শনী মাঠ ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের কাছ থেকে তথ্য নেন। পাশাপাশি কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।


