
দীর্ঘদিন ভারতে নির্বাসিত থাকা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ঘোষণার পর রাজনৈতিক চাপের মুখে শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিবেচিত রাষ্ট্রপতিকে সরে দাঁড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে তিনটি সূত্র জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ফলে শেখ হাসিনার উচ্চপর্যায়ের শেষ মিত্রও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে যাবেন। ২০২৪ সালে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে তার সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছে এবং দলটির অনেক নেতা-কর্মী কারাগারে কিংবা আত্মগোপনে রয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের অবস্থান থেকে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ১৭ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দেশ বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। তৈরি পোশাক রপ্তানিনির্ভর এই দেশ গত দুই বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
রয়টার্স বলছে, রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক; নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার হাতে। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতার সময়ে এই পদটির গুরুত্ব বেড়ে যায়।
৭৬ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে দলটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা তিনটি সূত্রই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন।
রয়টার্স জানায়, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। নিষিদ্ধ হওয়ার আগে আওয়ামী লীগ ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল এবং এখনো দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলটির সমর্থন রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স


