
রাজশাহীতে জমি নিয়ে আদালতের রায় থাকার পরেও দামকুড়া থানাধীন কলারটিকর এলাকায় অবৈধভাবে জোরপূর্বক জমি দখলকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩ জন গুরুতর জখম হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সরওয়ার্দীর ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৬) দামকুড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

রাজশাহীতে অবৈধভাবে জোরপূর্বক জমি দখল করতে আক্রমণে গুরুতর জখম ৩
রাজশাহীতে জোর করে জমি দখল, হামলা ও মারপিটের অভিযোগ
অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি
এদিকে শনিবার (২৯ নভেম্বর) জমি সংক্রান্ত বিরোধে মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে রাত ৮টায় সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমার চাচাকে পাসলি দিয়ে হত্যার জন্য আঘাতের পর আঘাত করে। আমার বাবাকেও পাসলি ও দেশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে রক্তাক্ত করে গুরুতর জখম করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জমির মালিকের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন আরো বলেন, দামকুড়া থানার কলারটিকর এলাকায় কাদিপুর মৌজায় খতিয়ান নং-৪৪৩ এর দাগ নং-৩৩১ মূলে ৫ শতাংশ জমি রয়েছে। উক্ত জমি নিয়ে বিবাদীদের সাথে বিরোধ থাকায় আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলটি প্রায় ২০ বছর চলমান থাকার পর আদালত থেকে আমাদের পক্ষে রায় প্রদান করেন। উক্ত রায়ের প্রেক্ষিতে আমরা জমিটি দখল বুঝিয়ে নি। প্রায় ১২ বছর যাবত উক্ত জমিটি আমাদের দখলে রয়েছে। জমিটি আমাদের নামে রায় প্রদান করায় মামলার আসামী শামসুল প্রতারণার মাধ্যমে জাল দলিল তৈরি আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় আমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানা পুলিশের সহায়তায় আসামীদের সাথে আমাদের মীমাংসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু কোন সমাধান হয়নি।
এরই প্রেক্ষিতে তারা আদলতের রায় মানি না জানিয়ে ২৮ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০ টায় আসামীরা পরিকল্পিতভাবে পাসলি, রড, হাসুয়াসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। ওই এলাকার শামসুলের ছেলে সবুজ (৩৫), আজুর ছেলে সালাউদ্দিন (৩৬), মৃত আজাহারের ছেলে আয়ু (৫২), শাহমখদুম থানার হরিষারডাইং এলাকার জানুর ছেলে রুবেল (৩৮), আজাহারের ছেলে শামসুল (৫৫), আব্দুস সাত্তারের ছেলে বিপ্লব (৪২), কলারিটকর এলাকার উজ্জ্বল (৩৮), উজ্জলের ছেলে শুভসহ (২৪) তাদের সহযোগিরা আমার বাবা ও চাচাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এতে আমার পরিবারের বেশ কয়েকজন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ৩ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় গত শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) দামকুড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, মামলার আসামী বিপ্লব আমার বাবা ও চাচাকে মারার জন্য হুকুম দেয়ার পরই তাদের লোকজন আমাদের পরিবারের লোকজনের উপর হামলা চালায়। তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমার পরিবারের লোকজনদের কুপিয়ে ও মারপিট করে আহত করে। আসামী সবুজের হাতে থাকা পাসলি দিয়ে আমার চাচা তাহসেনের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়। আমার চাচা মাটিতে পড়ে গেলে রুবেল তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ দিলে তার বাম হাতের আঙ্গুল কেঁটে ঝুলে যায়। এসময় আমার বাবা তাকে বাচাঁতে গেলে আসামী সালাউদ্দিন ও আজু রড এবং পাসলি নিয়ে আক্রমণ করে। আসামী সালাউদ্দিন আমার পিতার মাথা, পায়ে পাসলি দিয়ে কোপ দিলে তিনি মাটিতে পড়ে যান ও রক্তাক্ত জখম হন। এসময় আমার বাবা ও চাচার চিৎকারে লোকজন ছুটে আসলে তারা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরেন আমার ছোটভাই আহতদের উদ্ধার রামেক হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দামকুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল আলম জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনগতভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


