
বিশ্বখ্যাত গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার তথ্যভিত্তিক সূচক ‘ন্যাচার ইনডেক্স’-এ দেশব্যাপী ১৫তম অবস্থান অর্জন করেছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। ০.২০ শেয়ার স্কোর নিয়ে এ অবস্থানে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
গবেষণায় নতুন স্বীকৃতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে উচ্ছ্বাস
আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা Nature Portfolio ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক গবেষণার তথ্য মূল্যায়নের ভিত্তিতে ‘ন্যাচার ইনডেক্স’ প্রকাশ করে আসছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকায় বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয় ও দুটি মেডিকেল কলেজসহ মোট ৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে। গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বের ১৪৫টি মর্যাদাপূর্ণ পিওর সায়েন্স ও মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং গবেষকদের অবদানের ভিত্তিতে এ সূচক তৈরি করা হয়েছে।
ন্যাচার ইনডেক্সের তথ্যমতে, কোনো গবেষণাপত্রে একাধিক দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকলে গবেষণার মোট অবদান ভগ্নাংশ আকারে ভাগ করা হয়। এ অংশকেই বলা হয় ‘শেয়ার স্কোর’। মূলত এই স্কোরের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক গবেষণা সূচকে রুয়েটের অন্তর্ভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার ধারাবাহিকতা ও সক্ষমতারই প্রতিফলন। আধুনিক গবেষণাগার, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে রুয়েট আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “ন্যাচার ইনডেক্সে রুয়েটের অন্তর্ভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের অর্জন। এটি শুধু গবেষণায় অগ্রগতির স্বীকৃতি নয়, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও একাডেমিক নিষ্ঠারও প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, “প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গবেষণার ক্ষেত্রেও রুয়েট ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এই স্বীকৃতি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আরও উৎসাহিত করবে।”
ন্যাচার ইনডেক্সের তালিকায় দেশের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
গবেষণা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রকাশনা ও সহযোগিতা আরও বাড়ানো গেলে আগামী দিনে রুয়েটের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে। এ অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে।



