
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় হিন্দুয়ানী পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখল ও পরিবারসহ প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী দিনমজুর। অভিযুক্তরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের নানামুখী ষড়যন্ত্র ও উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজশাহী নগরীর একটি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্রী দুলাল চন্দ্র সরকার (৬১)।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, মৃত তাছের উদ্দিন সরকারের চার ছেলে—আশরাফুল ইসলাম, কামরুল হাসান বাবু, আসাদুল ইসলাম ও আবুল বাসার—তার জমির একই খতিয়ানে অংশীদার। তিনি পৈত্রিক সূত্রে ৪ শতাংশ জমির মালিক হলেও বিবাদীরা ১৭ শতাংশ জমি ক্রয় করে মালিকানা দাবি করছে এখন।
দুলাল চন্দ্র সরকারের দাবি, বিবাদীরা তার বাড়ির পাশেই নির্মাণকাজ শুরু করে ধীরে ধীরে তার জমির একটি অংশ দখল করে নেয় এবং তার বাড়িতে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এতে তিনি ভ্যানগাড়ি নিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না। বিষয়টি বারবার জানিয়ে প্রয়োজনীয় রাস্তা রেখে নির্মাণের অনুরোধ করলেও তা উপেক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত ২১ এপ্রিল এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে বিবাদীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় রেজাউল ও শ্রী ভূপেনন্দ্রনাথসহ একাধিক ব্যক্তি অবগত রয়েছেন বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দুলাল চন্দ্র সরকার জানান, জমিটি মোহনপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া মৌজায় অবস্থিত (জে.এল. নং ৪২, খতিয়ান নং ৩৯০, দাগ নং ১৫৬৫, দলিল নং ৪৭৬৭)। এ বিষয়ে তিনি ২০২৩ সালে রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (নং ১১৪৩/২০২৩) করেন। আদালতের রায়ে তার দখলকৃত অংশে প্রতিপক্ষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রতিপক্ষরা প্রভাবশালী ও দাঙ্গাবাজ প্রকৃতির। তারা আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও বর্তমানে বিএনপি করে। ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট বিকেলে তারা জোরপূর্বক বসতভিটায় প্রবেশ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দখলের চেষ্টা করে। বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় মোহনপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাননি।
মোহনপুরে জমি-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার জানান, গত ২৩ তারিখে দেওয়া অভিযোগটি তার দপ্তরে পৌঁছেছে। বিষয়টি জমি-সংক্রান্ত হওয়ায় অভিযোগটি সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে পাঠানো হয়েছে এবং তা গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও আরও বলেন, অভিযোগে যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধের বিষয় উঠে আসে, তাহলে মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়েদা সুলতানা এবং মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান মিজানকে ফোন করা হলে কল রিসিভ না হওয়ায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


