
কেউ সাঁতারের নীল জলে লড়াই করে জিতেছে, কেউ দাবার ছকে বুদ্ধির লড়াইয়ে সেরার স্বীকৃতি পেয়েছে। আবার কেউ কাবাডি ও হ্যান্ডবলের মাঠে ঘাম ঝরিয়ে ছিনিয়ে নিয়েছে জয়। তিন দিনের প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ের আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চ। পবার বিভিন্ন মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিভিন্ন ইভেন্টে কৃতিত্ব অর্জনকারী ১৬৬ শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় মাসকাটাদিঘী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে না; এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সহমর্মিতা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে ওঠে। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, আজকের মাঠের একজন খেলোয়াড়ই আগামী দিনে দেশ ও জাতির গৌরব হয়ে উঠতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও আন্তরিক হতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাসকাটাদিঘী বহুমুখী (কারিগরি) উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আখতার হাসান মৃধা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা আখতার জাহান।
সমাপনী অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। পুরস্কার হাতে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস আর করতালির মধ্য দিয়ে শেষ হয় তিন দিনের এ ক্রীড়া আয়োজন।
বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার উঠলেও অনেকের চোখে ছিল পরেরবার আরও ভালো করার স্বপ্ন। হার-জিতের হিসাব ছাপিয়ে প্রতিযোগিতাটি শিক্ষার্থীদের শিখিয়েছে—মাঠে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়াই সাফল্যের অন্যতম পথ।


