
দুর্গাপুরে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, তদারকিতে এলজিইডির গাফিলতি
আব্দুল্লাহ আল শামস, দুর্গাপুর (রাজশাহী)

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সিংগা জিসি-গোরখাই-গগনবাড়িয়া আরঅ্যান্ডএইচ সড়কের নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং বসে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও উঠে যাচ্ছে পাথর ও খোয়া। দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলা নির্মাণকাজে একদিকে যেমন ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা, অন্যদিকে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির আমগ্রাম অংশের শূন্য মিটার থেকে ৭ হাজার ৪৯০ মিটার পর্যন্ত উন্নয়নকাজের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স এম এ ইঞ্জিনিয়ারিং। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী গোলাম মোস্তফা, খিলগাঁও, ঢাকা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজ শুরুর পর প্রথমদিকে কিছুদিন নির্মাণকাজ চললেও একপর্যায়ে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর মাঝেমধ্যে কাজ শুরু হলেও ধারাবাহিকতা নেই। প্রায় দুই বছর ধরে এভাবে কাজ চলায় সড়কটি এখনো পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী হয়নি। এতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের যেসব অংশে ইতোমধ্যে কার্পেটিং করা হয়েছে, সেসবের কয়েকটি স্থানে তা বসে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও আবার সড়কের উপরিভাগের পাথর ও খোয়া উঠে গেছে। কাজ চলমান থাকা অংশেও নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান তদারকি নেই
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের মান ও অনিয়ম নিয়ে উপজেলা প্রকৌশল অফিসে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাদের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিয়মিত ও কার্যকরভাবে নির্মাণকাজ তদারকি না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রাস্তাটি প্রায় দুই বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে। ঠিকাদার মাঝে মাঝে কাজ করেন, আবার বন্ধ করে দেন। তাঁর ইচ্ছামতো কাজ করায় আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আগের কাজেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে আমরা দেখেছি। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা বিষয়গুলো যথাযথভাবে আমলে নেননি।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি নির্মাণাধীন থাকায় বিশেষ করে বর্ষাকালে দুর্ভোগ বেড়ে যায়। এর মধ্যে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হলে কাজ শেষ হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা করে দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি।
এলাকাবাসী জানান, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চলায় যানবাহন চলাচলে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, সড়কের বিভিন্ন স্তরে ব্যবহৃত ইট, খোয়া ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর মান যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ইতোমধ্যে কার্পেটিং বসে গিয়ে গর্ত তৈরির কারণও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে সড়কের নির্মাণকাজের মান যাচাই করতে হবে। ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর নমুনা পরীক্ষা করে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি যেসব স্থানে কার্পেটিং বসে গেছে বা গর্ত তৈরি হয়েছে, সেগুলোও যথাযথভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
যা বলছে এলজিইডি
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা প্রকৌশলী রায়হানুল হক বলেন, আমি রাস্তার কাজের অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এলাকাবাসী বলছেন, শুধু তদন্তের আশ্বাস নয়, দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা ও কাজের বিভিন্ন ধাপ যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ কাজ ঠিকাদারের নিজস্ব ব্যয়ে পুনরায় করার ব্যবস্থা করা জরুরি।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি অর্থে নির্মিত এ জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজ যেন নিম্নমানের নির্মাণের কারণে অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করতে এলজিইডির কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি জরুরি।


