
রাজশাহী নগরীর মুল অবকাঠামো উন্নয়ন ও রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন হয়েছে সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনুর হাত ধরে। টানা ১৫ বছর তিনি এই নগরীকে সাজিয়েছিলেন নিজের হাতে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার সূচনা করেছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। রাজশাহী নগরীতে টেকসই, যুগপোযোগি, পরিকল্পীত উন্নয়ন হয়েছিল মিুনর সময়। যা এখনো দৃশ্য মান। নগরীকে ঢেলে সাজানোর সাথে রাস্তা-ঘাটের আমুল পরিবর্তন এনেছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। সরকারী বা বেসরকারী সব সেক্টরেই অবকাঠামো উন্নয়নে নজির সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। মূলত সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর মিনুই এই নগরীকে একটি শহরের রুপদান করেছিলেন। তবে নগরবাসী বলছেন, মিনুর সময় আবারো আসতে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মিজানুর রহমান মিনু নির্বাচিত হলে আবারো নগরবাসি টেকসই, পরিকল্পীত উন্নয়ন দেখতে পাবে। তার রেখে যাওয়া কাজগুলো সম্পন্ন হবে।
স্বাধীনতার পর থেকে নব্বই দশক পর্যন্ত রাজশাহী নগরীতে তেমন উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছিল না। রাজশাহী বিভাগীয় শহর হলেও একটি শহরের যে বৈশিষ্ঠ তা ছিল না। শহরের অবস্থান, নগরায়ন, শিল্প, কলকারখানা, রাস্তা-ঘাট, বহুতল ভবন কিছুই ছিল না বললেই চলে। রাজশাহী শহর ছিল মূলত একটি উপজেলা সদরের মত। শহরের মধ্যকার রাস্তা-ঘাট ছিল সরু, আধাপাকা। পাড়া-মহল্লায় রাস্তা-ঘাট ছিল না বললেই চলে। যদিও রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন পাড়া মহল্লার নাম গ্রামাঞ্চলের পাড়া মহল্লার মতই। ১৯৯১ সালে মিজানুর রহমান মিনু মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর বদলে যেতে থাকে এই নগরীর চিত্র। বদলাতে থাকে রাস্তা-ঘাট। প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে শিল্প, কলকারখানা, সৃষ্টি হয় কর্মসংস্থান, তৈরি হতে থাকে বহুতল ভবন। মূলত ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত রাজশাহী নগরীর রাস্তা-ঘাটের আমুল পরিবর্তন আনেন মিজানুর রহমান মিনু। ধীরে ধীরে নগরায়নের দিকে ধাবিত হয় রাজশাহী নগরী। অল্প সময়ের মধ্যে একটি শহরের রুপ পায় রাজশাহী নগরী।

মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম পর্যায়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের দিকে হাত দেন। দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি অনুধাবন করেছিলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হলে রাজশাহী নগরী উন্নয়ন দিকে যাবে। এরপর একে একে নগরীর রাস্তা-ঘাট তৈরি শুরু করেন মিনু। নগরীর পশ্চিম থেকে পুর্ব, উত্তর থেকে দক্ষিণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি করণের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন তিনি। নগরীর প্রবেশদার সিটি করপোরেশনের পুর্ব দিকে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক, পশ্চিমে কাশিয়াডাঙ্গা হয়ে গোদাগাড়ী পর্যন্ত দুইলেনের রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন। কারণ এই রাস্তাটি রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক ও পশ্চিমের শেষ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাথে সরাসরি যোগযোগের কেন্দ্র স্থল। বিশেষ করে শিরোইরে বাস স্ট্যান্ড হওয়ার কারণে এই রাস্তাটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে। যার কারণে মিজানুর রহামন মিনু খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই রাস্তাটি নির্মাণ করেছিলেন। এছাড়াও শহরের মধ্যে কাজলা থেকে জিরোপয়েন্ট দিয়ে ফায়ার সার্ভিস হয়ে কোর্ট পর্যন্ত রাস্তাটি মিজানুর রহমান মিনুর অবদান। নগরীতে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব সহজতর করার জন্য একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে নগরীকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। নগরীর ভেতরে পাড়া-মহল্লার রাস্তা-ঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা খুব অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করেছিলেন মিজানুর রহমান মিনু।
মিজানুর রহমান মিনু দ্বিতীয়বার মেয়র ও প্রথমবার এমপি হওয়ার পর নগরীর উন্নয়নে গতি বাড়ে। ২৪ বছরের মধ্যে যেনো রাজশাহী নগরী বিশ্বের দরবারে একটি উন্নত, শিক্ষা নগরী, গ্রীণসিটি, ক্লিনসিটি, হেলদিসিটি হিসাবে স্থান পায় সে পরিকল্পনা করেছিলেন মিনু। ২০০৪ সালে রাসিক ও আরডিএ’র সমন্বয়ে ২৪ বছরের মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেন মিনু। এই মাস্টার প্ল্যানে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন ছিল রাস্তা-ঘাট। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে রাস্তা-ঘাট প্রসস্তকরণ, নগরীর মধ্যে দুই ও ফোর লেনের রাস্তা তৈরির বিষয়টির উপর গুরুত্ব দেয়া হয় এ মাস্টার প্ল্যানে। মিজানুর রহমান মিনুর মাস্টার প্ল্যান, পরিকল্পনা ও উদ্যোগে তৈরি করা নগরীর উপর যানবাহনের চাপ কমানোর জন্য বেলপুকুর থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত বাইপাস সংযোগ সড়ক। যা ছিল মিনুর একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও যুগপোযোগি উন্নয়ন। এছাড়াও মিনুর মাস্টার প্ল্যানে ছিল, নগরীর রেলগেট থেকে জিরোপয়েন্ট, কাজলা থেকে কোর্ট, রেলগেট থেকে নওদাপাড়া, রেলগেট থেকে লক্ষীপুর হয়ে সিএনবির মোড় পর্যন্ত রাস্তা প্রসস্তকরণ প্রকল্প। এরমধ্যে নগরীর রেলগেট থেকে নিউমার্কেট হয়ে জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য জায়গা অধিগ্রহণ করেছিলেন মিনু। পরে সময় শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে মিজানুর রহমান মিনু এ রাস্তাটি করে যেতে পারেননি। এছাড়াও রেলগেট থেকে লক্ষীপুর হয়ে সিএনবির মোড় পর্যন্ত আরডিএ’র সাথে সমন্বর করে এ রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। মূলত আগামী ৫০বছরের মধ্যে রাজশাহী নগরী কেমন হবে ২০০৪ সালে তার মাস্টার প্ল্যান করেছিলেন মিজানুর রহমান মিনু।
নগরবাসীর ভাষ্যমতে, মিজানুর রহমান মিনুর তৈরি করা নকশায় রাজশাহীর উন্নয়নের যে পরিকল্পনা ছিল গত ১৮ বছরে তা থমকে দাঁড়িয়েছে। মিনুর নকশা অনুযায়ী নগরীতে কিছু কাজ হলেও সেটি হয়েছে অপরিকল্পীত। গত ১৬ বছর নগরীর রাস্তা-ঘাট প্রসস্তকরণের নামে চলেছে অনিয়ম, দুর্নীতি। বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় করে রাস্তা-ঘাট তৈরি করা হলেও টেকসই হয়নি। কিন্তু মিজানুর রহমান মিনু যেসব রাস্তা তৈরি করেছিলেন সেগুলো ছিল টেকসই উন্নয়ন। নগরবাসি বলছেন, টেকসই উন্নয়নে মিনুর বিকল্প নেই। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মিজানুর রহমান মিনু নির্বাচিত হলে আবারো নগরবাসি টেকসই উন্নয়ন পাবে, আবারো প্রাণ ফিরে পাবে রাজশাহী মহানগরী।


