
গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে এশিয়ান টিভির একটি টকশোতে মান্দা উপজেলা বিএনপি’র সদস্য ডা: ইকরামুল বারী টিপু দাবি করেন তার বিরুদ্ধে বিগত সময়ে ৭টি নাশকতার মামলা হয়েছিল। মামলা সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য এবং বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য নওগাঁর মান্দা উপজেলা বিএনপি পরিবার ডা. ইকরামুল বারী টিপুর সঙ্গে সকল ধরনের রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়ে গত ২৩ অক্টোবর একটি প্রতিবাদ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, নওগাঁর মান্দা উপজেলা বিএনপির তৎকালীন সহসভাপতি মুনসুর আলী মৃধাকে ২০০৪ সালের মার্চের ১১ তারিখে প্রকাশ্যে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হত্যা করা হয়। সেদিনই মুনসুর আলী মুধার ভাই মন্টু বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. ইকরামুল বারী টিপু নাম না থাকলেও পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উঠে আসে তার নাম। তদন্তকারী কর্মকর্তা মান্দা উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. ইকরামুল বারী টিপুকে প্রধান আসামি করে আদালতে চার্জশিট পাঠানো হয়েছিলো। এরপর দীর্ঘ ৬ বছর আদালতে চলে সৈই মামলা।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে মৃত মুনসুর আলী মৃধার মেয়ে ফারজানা আফরিন মিতু তার বাবার খুনী ডা. ইকরামুল বারী টিপুর বিচার দাবি করেন এবং তৎকালীন আওয়ামী সরকারের তদবিরে তার বাবার খুনীরা খালাস পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
জানা যায়, ২০০৯ সালে ডা. একরামুল বারী টিপুসহ ৪ জন আসামী নওগাঁ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তাদের নাম প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছিলেন তৎকালীন বিএনপি সরকারের দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, সন্ত্রাস, লুটপাটের বিরুদ্ধে অবস্থায় নেওয়ায় তৎকালীন জোট সরকারের স্থানীয় এমপি সামসুল আলম প্রামানিক এবং প্রতিমন্ত্রী অলমগীর কবীরের প্রভাবে তাকে সেই মামলায় প্রধান আসামি করে চার্জশিট দেওয়া হয়। আবেদনে তিনি নওগাঁ-৬ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি ইসরাফিল আলম ও নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. ফজলে রাব্বি বকু তার নাম প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করেন। এরপর আদালত থেকে তিনি খালাস পান। ২০০৫ সালে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ ও সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের কারণে জেলা বিএনপি তাকে পদ থেকে বহিষ্কার ও সদস্য পদ বাতিলও করেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল বলেন, ডা. ইকরামুল বারী টিপু বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর ২০০৬ সালে বিকল্প ধারায় যোগদান করেন এবং প্রার্থী হন। ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীর্ষ প্রার্থীর বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন করে নির্বাচন করেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় জমি দখলের অভিযোগে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। তিনি আরও বলেন, গত ২১ তারিখে তিনি একটি টকশোতে দাবি করেন তার বিরুদ্ধে বিগত সময়ে ৭টি নাশকতার মামলা হয়েছিল। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যাচার।
বিএনপির দলীয় আদর্শ, দলের শুনাম ও শৃংখলার স্বার্থে মান্দা উপজেলা বিএনপির পরিবার ডা. ইকরামুল বারী টিপুর সঙ্গে সকল ধরনের রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করছে বলে ঘোষণাও দেন তিনি।
মান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মতিন মানবকণ্ঠকে জানান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মুনসুর আলী মৃধার পরিবার হত্যাকাণ্ডে ইকরামুল বারী টিপুর বিচার দাবি করে আসছিলেন। সেটি দলীয় হাইকমান্ডকে জানানোর চেষ্টাও করা হয়েছে। দলের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী কোনও নেতা বা কর্মী দলে থাকতে পারবে না বলেও জানান তিনি।
নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু জানান, মান্দা উপজেলা বিএনপিসহ মুনসুর আলী মৃধার পরিবার সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে তিনি অবহিত আছেন।
এ বিষয়ে ইকরামুল বারী টিপু গণমাধ্যমকে বলেন, মুনসুর আলী মৃধা মারা যান ২০০৪ সালে। সেই মামলার আসামি থেকে আদালত খালাস দেন ২০১০ সালে। তখন তারা আপিল করেননি। এত দিন পরে নির্বাচনের সময় এসে জনমনে বিভ্রান্ত সৃষ্টির লক্ষে তারা এই কাজ করছে।
বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নর ঘোষণা প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে কল করা হলে ডা: টিপুর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।


