
একদিকে মিজানুর রহমান মিনু যেমন রাজশাহীর রুপকার, তেমনি জননেতা। খোদ গুগল সার্চের উইকিপিডিয়াতে রাজশাহীর রুপকার হিসাবে মিজানুর রহমান মিনুর নাম রয়েছে। স্বাধীনতার পর যে কয়জন রাজনৈতিক নেতা রাজশাহীকে নিয়ে ভেবেছেন তার মধ্যে অন্যতম মিজানুর রহমান মিনু।

৯০ দশকের পর থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত রাজশাহীর মুল যে উন্নয়ন হয়েছে তা মিজানুর রহমান মিনুর অবদান। রাজশাহী মহানগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, ক্রীড়া, বাসস্থান, চিকিৎসা, কর্মসংস্থানের মহাপরিকল্পনায় করেছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। সেদিক থেকে মিজানুর রহমান মিনু ছিলেন রাজশাহীর উন্নয়নের স্বপ্ন পুরুষ। রাজশাহী মহানগরীর এই উন্নয়ন তাকে এনে দিয়েছে রাজশাহীর রুপকার খ্যাতি। প্রাণ জুড়ানো হাসি ও মানুষের ভালবাসায় তাঁর নামের আগে যোগ হয়েছে জননেতা।
মেয়র থেকে এমপি, টানা ১৫ বছর তিনি রাজশাহী মহানগরীর যেমন উন্নয়ন করেছেন, তেমনি ভেবেছেন, এখনো ভাবছেন। এমনকি মিজানুর রহমান মিনুর পরিকল্পনায় ২০০৪ সালে ২৪ বছরের জন্য রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) যে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেছিল, সেই মাস্টার প্ল্যানেই চলেছে রাজশাহী মহানগরীর উন্নয়ন।
১৯৯১ সালের ২১ মে প্রথমবার রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন মিজানুর রহমান মিনু। মেয়র নির্বাচিত হয়েই তার কাঁধে এসে পড়ে অবহেলিত পুরো মহানগরীর দায়িত্ব। তিনি শুরু করেন রাজশাহী নগরীর অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ। একের পর এক পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নগরী প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করে। আজকের ‘আধুনিক, নিরাপদ, গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি, এডুকেশন সিটি, হেলদি সিটির রুপকার মিজানুর রহমান মিনু। রাজশাহীর সাথে দেশের বিভিন্ন জেলার সাথে যোগাযোগের মূল ধারক বাহকও বলা হয় মিজানুর রহমান মিনুকে।
২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনিত প্রার্থী হিসেবে রাজশাহী-২ সদর আসন থেকে নির্বাচনে জয়লাভ করেন। মূলত তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর রাজশাহীর অবকাঠামো উন্নয়নে মাইল ফলক ছোঁয়া লাগে। মিজানুর রহমান মিনুর চিন্তায় চেতনায় ছিল রাজশাহীর উন্নয়ন। তাঁর মননশীল চিন্তায় উঠে আসে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে রাজশাহীর উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর যোগাযোগ ব্যবস্থার মুল জায়গা ছিল রেল।
স্বাধীনতার পর টানা ৩০ বছর পশ্চিমাঞ্চল রেলের কোনো উন্নয়ন হয়েছিল না। অনেকটা ঝুপড়ি ঘরের মত ছিল রেল স্টেশন, টিকিট কাউন্টার, অফিস। যাত্রীদের বসার কোনো জায়গা ছিল না। রেল কর্মচারিদের ছিল না ভাল মানের অফিস। পাকিস্তান আমলের ভাঙ্গাচুরা ভবনে চলতো রেলের যাবতীয় কার্যক্রম। মিজানুর রহমান মিনু এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর রেল সংস্কার কাজ শুরু করেন। নির্বাচিত হওয়ার মাত্র দেড় বছরের মাথায় তিনি রাজশাহীর রেল স্টেশন, কর্মকর্তাদের জন্য আধুনিক রেল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। বর্তমান রাজশাহীর যে আধুনিক মানের রেল স্টেশন ও রেল ভবন রয়েছে এটি নির্মাণ করেছেন মিজানুর রহমান মিনু। ২০০৩ সালে ১৮ কোটি ৪৫ লাখ ৬৬হাজার টাকা ব্যয়ে রাজশাহীর আধুনিক রেল স্টেশন ও রেল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন মিজানুর রহমান মিনু। বর্তমান এই উন্নয়ন একশ কোটি টাকার সমান। পরে ২০০৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এ রেল স্টেশন ও রেল ভবন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া উদ্বোধন করেন। রাজশাহীর রেল স্টেশন সেই সময় থেকেই বাংলাদেশের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষনীয় রেল স্টেশন হিসাবে পরিচিত। এছাড়াও মিজানুর রহমান মিনুর নির্মাণ করা রেল স্টেশন ও রেল ভবনটি ২০ বছর পরও আধুনিকতার ছোঁয়া লেগে আছে। মিজানুর মিনু পুরো পশ্চিমাঞ্চল রেলে আধুনিকতার রুপ দিয়েছেন। যা আজো রাজশাহীর অবকাঠামো উন্নয়নে জীবন্ত সাক্ষি হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে।
- আবারো উন্নয়নের আশায় বুকবাঁধছে রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা
- মিনুর নির্মাণাধীন দৃষ্টি নন্দন রেল স্টেশন ও ভবন
মূলত গত প্রায় দেড়দশক ধরে পশ্চিমাঞ্চল রেলের আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। ২০০৮ সালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমাঞ্চল রেলে উন্নয়নের পরিবর্তে চলেছে লুটপাট, অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য। গত প্রায় ১৬ বছর পশ্চিমাঞ্চল রেলের কোনো অবকাঠামো উন্নয়ন হয়নি। মিজানুর রহমান মিনু রেলের যে উন্নয়ন করে গেছেন সেটিই এখনো রয়েছে। তারপর আর কোনো উন্নয়ন করেনি আওয়ামী লীগ সরকার। তবে আবারো পশ্চিমাঞ্চল রেল প্রাণ ফিরে পাবে এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আবারো অবকাঠামো উন্নয়ন হবে এমনটা আশা করছেন রেলের কর্মকর্তা কর্মচারিরা। রেলের কর্মচারিরা বলছেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে মিজানুর রহমান মিনু বিজয়ী হবেন। আর মিজানুর রহমান মিনু বিজয়ী হওয়া মানে আবারো প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম রেলের উন্নয়ন হবে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদ বলেন, বিগত ২০ বছর পশ্চিমাঞ্চল রেলের কোনো উন্নয়ন হয়নি। তৎকালীন রাজশাহী সদর আসনের এমপি মিজানুর রহমান মিনু যে অবকাঠামো উন্নয়ন করে গেছেন এটি ছিল সর্বশেষ উন্নয়ন। তিনি বলেন, আবারো রেলের উন্নয়নের জন্য আমরা বুক বাঁধতে শুরু করেছি। বেশ কিছু প্রকল্প ইতিমধ্যে আমরা হাতে নিয়েছি। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণ। এই রেল লাইন নির্মাণ করা হলে বগুড়া থেকে রংপুর যোগাযোগ সহজ হবে। এতে সময়ও অনেক কমে যাবে।
এছাড়াও আব্দুলপুর থেকে রাজশাহী পর্যন্ত রেলের ডাবল লাইন করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। রাজশাহী থেকে আব্দুলপুর পর্যন্ত রেলের ডাবল লাইন করা হলে এ রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে। তিনি বলেন, রেল ভবনটি মিজানুর রহমান মিনু নির্মাণ করেছিলেন শুধু জিএম ও প্রশাসনিক দপ্তরের জন্য। কিন্তু আর কোনো ভবন না থাকায় এই ভবনেই অনেক অফিসাররা এসে কাজ করেন। তিনি বলেন, এখনও রেলের সব দপ্তর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আমরা পরিকল্পনা করছি বহুতল ভবন নির্মাণ করে এক জায়গায় সব দপ্তর নিয়ে আসার। এতে কাজের গতি বাড়বে। হয়রানি কম হবে। আর এসব কাজ বা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য মিজানুর রহমান মিনুর মত একজন দক্ষ ব্যক্তির প্রয়োজন। মিজানুর রহমান মিনু এমপি নির্বাচিত হলে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি আমাদের এসব পরিকল্পনা খুব সহজে ও দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।


