
মৌসুমী দাস, চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

শীতের আগমনের সাথে সাথে কুমড়ো বড়ি তৈরির ব্যস্ততা বেড়েছে গ্রাম অঞ্চলের নারীদের মাঝে। দেখতে যেমন সুন্দর, খেতে তার চেয়ে বেশি সুস্বাদু। শীত আসলেই কুমড়ো বড়ির কথা মনে পড়ে যায়। শীতের খাবারে মুখরোচক স্বাদ আনতে মাছ-সবজিতে কুমড়ো বড়ির প্রচলন দীর্ঘ দিনের। রাজশাহীর চারঘাটে কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন গ্রামের নারীরা।
বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কুমড়ো বড়ি তৈরির ধুম পড়েছে নারীদের। কুমড়ো বড়ি তৈরির উপযুক্ত সময় শীতকাল। শীতের সময় গ্রামীণ নারীদের কর্ম ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তারপর দিন ছোট কাজও বেশি। এর মধ্যেই সকল কাজের আগে সকাল বেলা কুমড়ো বড়ি তৈরি করছে নারীরা। কুমড়ো বড়ি তৈরির প্রধান উপকরণ মাসকালাইয়ের ডাল আর চালকুমড়া। এর সাথে সামন্য মসলা। প্রতি এক কেজি কালাইয়ে ৭০০ গ্রাম বড়ি তৈরি হয়। প্রতি কেজি বড়ি প্রকারভেদে ২০০-৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। কুমড়ো বড়ি তরকারির সঙ্গে রান্না করে খাবারের একটি মুখরোচক উপাদান। এতে তরকারির স্বাদে যোগ হয় নতুন মাত্রা।

উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের কাকমারি গ্রামের বিথী রানী বলেন, ৫ কেজি কুমড়ার সাথে দুই কেজি মাসকালাইয়ের মিশ্রণে কুমড়ো বড়ি ভাল তৈরি হয়। আগে মাসকালাই পানিতে ভিজিয়ে পরিস্কার করা, আর ঢেঁকিতে বা পাটায় বেটে বড়ি তৈরি করতে প্রচুর পরিশ্রম হত, সেই সাথে অনেক সময় লাগতো। এখন খোসা ছাড়ানো মাসকালাই বাজারে ক্রয় করতে পাওয়া যায়। মাসকালাই পানিতে ভিজিয়ে মেশিনের সাহায্যে মাড়াই করে অল্প সময়ে বড়ি তৈরির মিশ্রণ তৈরি করা খুব সহজ হয়েছে। এতে করে অল্প সময় প্রচুর পরিমাণ কুমড়া বড়ি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি আয় করা সম্ভব হচ্ছে।
একই এলাকার শিল্পী রানী বলেন, শীতের শুরু থেকে আমরা বড়ি তৈরি করি। সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বড়ি তৈরির কাজ করি। আকাশে রোদ ভালো থাকলে তিন-চার দিন সময় লাগে বড়ি শুকাতে। আকাশ মেঘলা অথবা রোদ কম হলে বড়ি তৈরিতে সমস্যা হয়। কম রোদে শুকানো বড়ির দাম কম হয় বাজারে। বছরে চার মাস বড়ি তৈরি করে সংসারের জন্য বাড়তি আয় করি আমরা।
উপজেলার নাজমা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে মূলত বড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়। কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজ চলে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন গড়ে দশ কেজি পরিমাণ কুমরো বড়ি তৈরি করতে পারেন। বছরের এসময় কুমরো বড়ি তৈরি করে পরিবারে ভালোই বাড়তি আয় হয়। তা দিয়ে ছেলে মেয়েদের পড়ালেখা করাসহ সংসারের অন্যান্য কাজে লাগানো যায় এতে করে সংসারে বেশ উন্নতি হয়েছে।
কুমড়া বড়ি ব্যবসায়ীরা বলেন, স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি মাষকলাই এর বড়ি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে দোকানীরা। বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়তই পাইকাররা এসে আমাদের কাছ থেকে বানানো বড়ি কিনে নিয়ে যায়। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন হাটেও খুচরা বিক্রয় করা হয় বলে তারা জানান।


