
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নদীতে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিএনপি সরকার গঠন করলে রাজশাহীর উন্নয়ন ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। শহীদ জিয়া বরেন্দ্র প্রকল্প চালু করার পর দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল। আমরা সেই ধারা সঠিকভাবে পুনরায় চালু করতে চাই। ধানের শীষের সরকার গঠিত হলে ইনশাআল্লাহ পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কাজ হাতে নেব।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজশাহীতে উন্নয়ন ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ঘোষণা
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি ও বেকারদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি
‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষি কার্ড’ সহ সহজ শর্তে কৃষিঋণ
আম চাষিদের ভাগ্য উন্নয়নে রয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা
উপচে পড়া ভিড়ে লোকারণ্যে রাজশাহী নগর
দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমানের জনসভা
২০০৪ সালে বিভাগীয় কর্মী সম্মেলনের পর তারেক রহমান রাজশাহীতে
তারেক রহমান ঘোষণা দিয়ে বলেন, আজ আমি জনগণের কথা বলতে চাই। যে কথা বললে মানুষের উন্নয়ন ও উপকার হবে। রাজশাহীর কথা বললেই দুটি বিষয় সামনে আসে। প্রথমটি পদ্মা নদী। কিন্তু দুঃখজনক হলো পদ্মা, তিস্তা কিংবা ব্রহ্মপুত্র, কোথাও আজ পর্যাপ্ত পানি নেই। তিনি আরও যোগ করেন, ‘পুরোনো পরিকল্পনাগুলোকে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হবে। আর এর জন্য আপনাদের মূল্যবান ভোটে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে।’

শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘রাজশাহী একটি শিক্ষানগরী। এখানে অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষ থাকলেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই; শিক্ষিত যুবকরা আজ ঘরে বসে আছে। আমাদের এই দিকে নজর দিতে হবে। আমরা রাজশাহীর আইটি পার্ককে সচল করতে চাই। এছাড়া আম সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার ও বিশেষ পরিকল্পনার মাধ্যমে আম চাষিদের ভাগ্য উন্নয়নের চিন্তা আমাদের রয়েছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। ঝগড়া, বিবাদ বা বিসংবাদে জড়াতে চাই না। তাই কারও সমালোচনা করছি না। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকলে আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলব সঠিক তদন্ত করুন। তদন্তে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমরা তা করব। তবে তদন্ত হতে হবে স্বচ্ছ এবং বিচার হতে হবে আইন অনুযায়ী। আমরা দেশে শান্তি চাই এবং সবাইকে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।
বক্তব্যের শুরুতে স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ ২২ বছর পর আপনাদের সাথে সরাসরি দেখা হলো। সর্বশেষ ২০০৪ সালে এসেছিলাম; বিভিন্ন উপজেলায় গিয়েছি, শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। আপনাদের সাথে আমার একটি আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমান দেশ গড়েছেন, খালেদা জিয়া দেশ গড়েছেন। এই দেশই আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা। আমাদের মূলমন্ত্র করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশ কোন পথে চলবে গণতন্ত্রের পথে নাকি অন্য কোনো দিকে? আমাদের গণতন্ত্রকে মজবুত করতে হবে।’
নির্বাচনে জয়ী হলে রাজশাহীতে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, কৃষিতে ভর্তুকি, সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদান, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক গড়ার ঘোষণাও দেন তিনি। এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ জনসভায় তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, জনসভাকে কেন্দ্র করে মাদরাসা মাঠ ও এর আশপাশের এলাকা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। উপচে পড়া ভিড়ে জনশ্রোতে পরিণত হয় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ। দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমানের জনসভা অনুষ্ঠিত হলো। গত ২০০৪ সালে বিভাগীয় কর্মী সম্মেলনের পর তারেক রহমান রাজশাহীতে জনসভা করলেন।


