
স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাজশাহী কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসে সিট দখলকে কেন্দ্র করে এক সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বরাদ্দবিহীন এক শিক্ষার্থীকে কক্ষে তোলার বিষয়ে প্রশ্ন করায় তাঁকে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী।

ছাত্রদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ; অস্বীকার অভিযুক্তের, তদন্তের আশ্বাস কলেজ প্রশাসনের
ভুক্তভোগী ও ছাত্রাবাস সূত্রে জানা গেছে, মুসলিম ছাত্রাবাসের বখতিয়ার খলজি (নিউ ব্লক) ভবনের ৫০৪ নম্বর কক্ষে থাকেন কলেজের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই কক্ষের অন্য একটি বরাদ্দকৃত সিটে কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল কর্মী কেলভিনের মাধ্যমে রাখা হয়। ওই শিক্ষার্থী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে সিটে উঠেছেন কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাঈমকে ডি ব্লকের সামনে নিয়ে গিয়ে কেলভিনসহ কয়েকজন ছাত্রদল কর্মী মারধর করেন।
রোববার রাতের ওই ঘটনার পর আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান নাঈম হোসেন। তিনি বলেন, “ঘটনার পর থেকে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না। খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে, মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছি।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি প্রকাশ করলে তাঁকে ছাত্রাবাস থেকে বের করে দেওয়া কিংবা আবারও হামলার শিকার হতে হতে পারে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তিনি ভীত। তবে বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকের মাধ্যমে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল শিক্ষককে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী কেলভিন বলেন, “মারধরের অভিযোগ সত্য নয়। আমাদের মধ্যে কিছু কথা-কাটাকাটি হয়েছিল, তবে আমি তাকে মারিনি।”
রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশিকুজ্জামান প্রীতম বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা আগে জানতাম না। এখন শুনলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তফা নাছিরুল আজম বলেন, “এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। যে শিক্ষার্থীকে ওই সিটে রাখা হয়েছিল, তাকে সিট ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইব্রাহিম বলেন, *“ঘটনাটি দুঃখজনক। ছাত্রাবাসে অবৈধভাবে কারও থাকার সুযোগ নেই। কোনো সংগঠনের পরিচয়ে মেধাভিত্তিক বরাদ্দের সিট দখল করতে দেওয়া হবে না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


