
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজশাহীর পশুর হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে। জেলার ঐতিহ্যবাহী সিটি হাটসহ বিভিন্ন স্থানীয় পশুর হাটে বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়। তবে এবার চাহিদার তুলনায় পশুর সরবরাহ বেশি থাকায় বাজারে ক্রেতার চেয়ে পশুর সংখ্যাই বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন খামারিরা।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি গবাদিপশু। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি গরু, ৩ হাজার ৪২৫টি মহিষ, ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি ছাগল এবং ৪৩ হাজার ৪০৬টি ভেড়া। বিপরীতে জেলার চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি পশু। ফলে প্রায় ৯২ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকছে, যা দেশের অন্যান্য জেলায় পাঠানো হবে।
গত বছর রাজশাহীতে পশুর মোট সরবরাহ ছিল ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৮৯৩টি এবং চাহিদা ছিল ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪৩৭টি।
রাজশাহী বানেশ্বর ও সিটি হাট ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের নানা এলাকা থেকে ট্রাকভর্তি গরু নিয়ে হাটে আসছেন ব্যবসায়ী ও খামারিরা। তবে ঈদের এখনও কয়েকদিন বাকি থাকায় ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। খামারিরা আশা করছেন, দু-একদিনের মধ্যেই বেচাকেনা জমে উঠবে।
শুধু সিটি বা বানেশ্বর হাট নয় বরং সোনাইচাঁদী, কাঁকনহাট, দামকুড়া, সাবাই, কাটাখালী, নওহাটা, কেশরহাট ও তেবাড়িয়া হাটেও জমে উঠেছে পশু বেচাকেনা। অনেকে আবার সরাসরি খামার কিংবা গেরস্থ বাড়ি থেকেই পশু কিনে আগাম বুকিং দিচ্ছেন।
খামারিদের অভিযোগ, গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে এবার পশু লালন-পালনের খরচ অনেক বেড়েছে। ফলে ন্যায্যমূল্য না পেলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে তাদের।
পবা উপজেলার পারিলার খামারি সানাউল্লাহ বলেন, প্রতি কেজি মাংসের দাম যদি ৮০০ টাকার মধ্যে না পাই, তাহলে লাভ তো দূরের কথা, লোকসান গুনতে হবে। এ বছর পশু পালনে খরচ অনেক বেড়েছে। নায্য মূল্য পাওয়ায় কঠিন হয়ে গেছে। তবে আজকে ছাগলের চেয়ে গরুর বাজার ভালো বলেও জানান তিনি।
মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া গ্রামের খামারি কামরুল ইসলাম বলেন, খাদ্য ও পরিচর্যা ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পশু উৎপাদনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারিভাবে বাজার মনিটরিং ও খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, হাটে সক্রিয় দালাল চক্র অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিমভাবে পশুর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত দামে পশু কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া কয়েকদিনের তীব্র গরমে হাটে আসা মানুষজনও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতোয়ার রহমান কলোবেলাকে বলেন, একসময় ভারতীয় গরু প্রবেশের কারণে স্থানীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। এবার সীমান্তে বাড়তি নজরদারি নেওয়া হয়েছে, যাতে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ করতে না পারে। স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, রাজশাহী অঞ্চলে এবার পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকায় বাজার স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হাটগুলোতে নজরদারি ও মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। খামারিদের চিকিৎসা ও কারিগরি সহায়তাও অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
ল্যাম্পি স্কিন রোগ প্রসঙ্গে ডা. আতোয়ার রহমান বলেন, একসময় গরমে গবাদিপশুর মধ্যে সংক্রমণ ছড়ালেও বর্তমানে ভ্যাকসিন প্রয়োগের কারণে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে।
রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার শওকত আলী বলেন, আজকে হালকা-পালতা হাট বসেছে। দু-একদিনের মধ্যে জমজমাট হাট বসবে। এখনো ক্রেতা কম। হাটের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ টিম কাজ করছে বলেও জানান তিনি।


