
জৈব সার তৈরির সম্ভাবনা থাকলেও নেই উদ্যোগ !!
আবুল কালাম আজাদ, পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি : উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর কলার হাটে সপ্তাহে চারদিন প্রায় লক্ষাধিক কলার বেচাকেনা হলেও হাটজুড়ে জমে থাকা উচ্ছিষ্ট ময়লা-আবর্জনার স্তূপের উপরেই চলছে এই বৃহৎ কলার হাট । আমদানিকৃত কলার সাথে আসা কলার পাতা পচে কলারখোসা, কাণ্ড, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য বৃষ্টির পানিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন হাটের শতাধিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের। এতে চুলকানি, পচড়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগছেন তারা।

সপ্তাহে চারদিন শুক্রবার,শনিবার,সোমবার ও মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হওয়া বানেশ্বর কলার হাটে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কলা আসে। বেচাকেনা শেষে কলার পাতা, খোসা, ডাঁটা ও অন্যান্য উচ্ছিষ্ট হাটের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রাখা হয়। সময়মতো অপসারণ না হওয়ায় সেগুলো পচে বিশাল আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে।
অথচ কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, কলার খোসা, ডাঁটা ও পচা ফল অত্যন্ত মূল্যবান জৈব সার উৎপাদনের কাঁচা উপাদান। এগুলো কম্পোস্ট বা ভার্মি কম্পোস্ট পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চমানের জৈব সার তৈরি করা সম্ভব। এতে একদিকে হাটের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থাকবে, অন্যদিকে কৃষকরা সাশ্রয়ী মূল্যে জৈব সার পাবেন এবং সারের চাহিদা পূরণ হবে তাছাড়া বর্জ্য থেকেও আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন কলা বিক্রেতা সূজনের দাবি, বানেশ্বরের মতো বড় কৃষিপণ্যের হাটে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জৈব সার উৎপাদনের একটি কার্যকর প্রকল্প গড়ে তোলাতে সক্ষম ।
হাটের একাধিক শ্রমিকরা জানান, কলা গাড়িতে লোড আনলোড করার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই আবর্জনার মধ্যেই কাজ করতে হয়। অনেকের চুলকানি, পচড়া, ত্বকের সংক্রমণ নানা সমস্যায় ভুগছেন। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
উপরিউক্ত বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
হাটের স্থানীয় অধিবাসী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা না থাকায় হাটের পরিবেশ দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। তারা দ্রুত আবর্জনা অপসারণ এবং স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি জৈব সার তৈরির পদক্ষেপের দাবি জানান ।


