
আবুল কালাম আজাদ, বানেশ্বর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় শীতকালীন ফসল মৌসুমে সারের সংকট দেখা দেওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন বাজার ও কৃষি উপকরণ বিক্রয়কেন্দ্রে সার পাওয়া গেলেও তা উচ্চমূল্যে বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন কৃষকেরা। ফলে অধিক মূল্য গুনে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা তাদের জমিতে আলু, গম, শাকসবজি ও বোরো ধানের প্রস্তুতি শুরু করলেও সারের অভাবে চাষাবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে , টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তার দামও বেড়ে গেছে বলে জানান চাষীরা।
এদিকে ওসমান আলী বিসিআইসির এবং বিএডিসি সারের ডিলার বানেশ্বর ৮ ডিসেম্বর সোমবার সকাল ১১.০০ টায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে সরকারি সার বিক্রি শুরু হওয়ার খবরে সকাল থেকেই সরকারি বিক্রয় কেন্দ্রে উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। দীর্ঘ লাইন ধরে সার কেনার অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় শত শত কৃষককে। অনেকে আবার সার পাওয়ার আশায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ সার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় কৃষক শাহজামান , ইলিয়াস আলী,মানজুর রাহমান , আনারুল বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার ডিএপি ও ফসফেট সারের সংকট বেশি। বাজারে গেলে বেশি দামে কিনতে হয়, আবার সরকারি সারও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। এতে আমাদের উৎপাদন খরচ বাড়ছে।”
এ বিষয়ে বানেশ্বর ইউনিয়নের উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, সার সংকট সাময়িক; সরকার নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী ধাপে ধাপে সার সরবরাহ করবে। কৃষকদের তালিকা অনুযায়ী ন্যায্যমূল্যে সার বিতরণের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।
কৃষকদের আশা, সার সরবরাহ স্বাভাবিক হলে তাদের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং মৌসুমি ফসলের উৎপাদনেও কোনো বাধা তৈরি হবে না। তবে সার সংকট দীর্ঘায়িত হলে শস্য উৎপাদন ও কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি বাড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।


