
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজু মিয়ার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে আনা অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আরএমপি। একই সঙ্গে অভিযোগকারী শাহীন কবিরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে পুলিশ। শনিবার (২৫ জুলাই) আরএমপির মিডিয়া শাখা থেকে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এর আগে শিরোইল কাঁচাবাজারে অবস্থিত রাজশাহী বিভাগীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শাহীন কবির অভিযোগ করেন, কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই তাকে গ্রেপ্তার করে বোয়ালিয়া থানায় নিয়ে যান এসআই রাজু মিয়া। সেখানে তাকে মারধর করে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেওয়া হয়। এছাড়া জেলহাজতে থাকা অবস্থায় তার প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের ব্যক্তিগত গাড়ি আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ অসত্য বলে দাবি করেছে আরএমপি।
পুলিশের ভাষ্য, শাহীন কবির তার বৈবাহিক পরিচয় গোপন রেখে এক ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং গোপনে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করেন। পরে ওই ছাত্রী সম্পর্ক থেকে সরে যেতে চাইলে তিনি ধারণকৃত ভিডিও ও ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপনের চাপ দেন। এমনকি ভিডিও মুছে দেওয়ার জন্য এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে তিনি ওই ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী বোয়ালিয়া মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করলে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে এসআই রাজু মিয়া আইনানুগভাবে শাহীন কবিরকে গ্রেপ্তার করেন বলে জানায় আরএমপি।
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, মামলার আলামত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ভিডিও ও স্থিরচিত্র পাওয়া যাওয়ায় সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া তার ব্যক্তিগত গাড়ি আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ছেলের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি জিডিভুক্ত রয়েছে।
আরএমপি বলছে, মামলার তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার, আলামত জব্দসহ সব কার্যক্রম প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। এসআই রাজু মিয়ার বিরুদ্ধে অর্থ দাবি বা গাড়ি আত্মসাতের কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা। এ ধরনের মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


