
রাজশাহীতে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে দুই যুবক গ্রেপ্তার
হাতে হাসুয়া, সঙ্গে ওয়্যারলেস সদৃশ মোবাইল ফোন। সেই ফোনে আবার ব্যবহার করা হয়েছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মনোগ্রাম। উদ্দেশ্য ছিল সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটন। এমন অভিযোগে রাজশাহী মহানগরীতে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে দুটি হাসুয়া, ওয়্যারলেস সদৃশ একটি মোবাইল ফোন ও দুটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নগরীর বোয়ালিয়া থানার কয়েরদারা খ্রিষ্টানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আরএমপির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন—চন্দ্রিমা থানার ছোটবনগ্রাম এলাকার এস এম এহসান উদ্দিন বাদশার ছেলে এবং বর্তমানে শাহমখদুম থানার নওদাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এস এম হাসান মুক্তাদির কিউট (২৩) ও কয়েরদারা খ্রিষ্টানপাড়া এলাকার মো. জাকির হোসেনের ছেলে মো. সিফাজ হোসেন (২৫)।
ছদ্মবেশে অপরাধের প্রস্তুতি
আরএমপি জানায়, অভিযানের সময় কিউটের কাছ থেকে লোহার বাটযুক্ত ৩১ ইঞ্চি লম্বা একটি হাসুয়া, ওয়্যারলেস সদৃশ একটি মোবাইল ফোন ও একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে সিফাজের কাছ থেকে কাঠের বাটযুক্ত ২৬ ইঞ্চি লম্বা একটি হাসুয়া ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় অবস্থান করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, কিউটের কাছ থেকে উদ্ধার করা মোবাইল ফোনটি যাচাই করে তাতে আরএমপির মনোগ্রাম ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া যায়। ফোনটিতে একটি মোবাইল নম্বর ‘হোয়াটসঅ্যাপ’ নামে সংরক্ষিত ছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
আরএমপির ভাষ্য, ওয়্যারলেস সদৃশ ওই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করা হতো। এভাবে বিভিন্ন সময়ে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আগেও একাধিক মামলায় আসামি
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার কিউটের বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় পেনাল কোডের ধারায় সাতটি এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা রয়েছে। অপরদিকে সিফাজের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় পেনাল কোডের ধারায় একটি এবং রাজশাহীর চারঘাট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে।
সরকারি কর্মচারী না হয়েও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রাম ব্যবহার এবং ওয়্যারলেস সদৃশ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থানের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হয়েছে।
প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান
এ ধরনের প্রতারণা ও অপরাধ থেকে নগরবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আরএমপি। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীর পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
পুলিশের ধারণা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও প্রতীক ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করাই ছিল তাদের অপরাধ সংঘটনের অন্যতম কৌশল। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত করা হচ্ছে।


