
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন রীতিমতো অতিষ্ঠ। এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে আমরা চিনি ‘লোডশেডিং’ নামে। এই লোডশেডিং হলে প্রায় সবার মধ্যেই একটা বিরক্তির অভিব্যক্তি বেশ ভালোমতোই প্রকাশ পায়।

তবে লোডশেডিং যে শুধু মানুষের বিরক্তির কারণই হয় তা নয়, বরং লোডশেডিংয়ের আছে একাধিক উপকারিতাও। শুনতে অবাক লাগলেও বিষয়টা সত্য।চলুন জেনে নেওয়া যাক লোডশেডিংয়ের এরকম কিছু উপকারিতা সম্পর্কে-
লোডশেডিং হলে যেহেতু বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে, তাই কম বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ বিলও তুলনামূলক কম আসে।লোডশেডিংয়ের সময় প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে কিছুটা দূরে থেকে নিজের সৃজনশীল চিন্তা ও কাজের দিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। যা আমাদের ব্যক্তিগত মানসিক বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
লোডশেডিংয়ের সময় যেহেতু প্রযুক্তি বা মোবাইল থেকে দূরে থাকার সম্ভাবনা বেশি, তখন পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে সময় কাটাতে পারে। স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে গল্প, আড্ডা বা আনন্দঘন মুহূর্ত ভাগাভাগি করার মাধ্যমে পারিবারিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
রাতে লোডশেডিং হলে রাত জেগে মোবাইল ব্যবহার বা টিভি দেখার প্রবণতা কমে যাওয়ায় ঘুমের অভ্যাস ভালো হয়। কিছুটা গরমে ঘাম হওয়ায় শরীরের ক্যালরিও ক্ষয় হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য কার্যকরই বলা যায়।লোডশেডিং হলে লিফটে আটকে পড়তে হতে পারে- এমন আশঙ্কায় অনেকে বাসায় বা যেকোনো বিল্ডিংয়ে সিঁড়ি ব্যবহার করেন ওঠানামা করেন। এতে যাদের নিয়মিত শরীরচর্চার সময় বা সুযোগ হয় না, তারাও কিছুটা শারীরিক ব্যায়ামের সুযোগ পান।
লোডশেডিংয়ের সময় পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে ইনডোর গেম খেলা যেতে পারে। এতে বিনোদনের পাশাপাশি খেলাধুলার চর্চাও হয় এবং সময় আনন্দে কেটে যায়।এছাড়া পোষা প্রাণীদের সঙ্গেও কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ মেলে। সারাদিন একা থাকা বিড়াল, কুকুর বা পাখির সাথে খেলাধুলা ও আদর করলে তাদেরও ভালো লাগে, আর আপনার মনও প্রফুল্ল থাকে।


