
রাকিবুল ইসলাম, মোহনপুর উপজেলাঃ
রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের কেশরহাট থেকে রাজশাহীগামী পথে মোহনপুর উপজেলায় মাছ পরিবহনকারী ট্রাক থেকে নির্গত পানির কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে উঠছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পানি শুধু রাস্তায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে না, বরং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং খোলা যানবাহন যেমন ভ্যান, অটোরিকশা ও অন্যান্য পরিবহনে থাকা যাত্রীদের গায়ে মাছের গন্ধযুক্ত পানি ছিটকে পড়ছে। সম্প্রতি এমন এক ঘটনায় মাছবাহী ট্রাক থেকে পানি পড়ে রাস্তা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এই মহাসড়কটি মোহনপুরের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মাছবাহী ট্রাক থেকে ফেলা পানির কারণে পথচারী, সাইকেল চালক, মোটরসাইকেল আরোহী এবং খোলা যানবাহনের যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়ছেন। পিচ্ছিল রাস্তায় মোটরসাইকেল স্লিপ করে পড়ে যাওয়ার ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল হাকিম বলেন, “মাছের পানি রাস্তায় পড়ে পিচ্ছিল হয়ে যায়, যার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অটোরিকশায় থাকা যাত্রীদের গায়ে দুর্গন্ধযুক্ত পানি পড়ে, যা অসহনীয়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চললেও স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ব্যবসায়ী রহিমা বেগম বলেন, “ট্রাক চালকরা রাস্তায় পানি ফেলে চলে যায়, আর আমরা দুর্ভোগ পোহাই। এর সমাধান চাই।” মাছ পরিবহনের ট্রাকগুলোতে পানি ধরে রাখার সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় এই সমস্যা তীব্র হচ্ছে।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, মাছবাহী ট্রাকগুলোর জন্য কঠোর নিয়ম-নীতি প্রণয়ন, পানি পড়া রোধে প্রযুক্তিগত সমাধান এবং রাস্তায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু করা জরুরি। মোহনপুর উপজেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান, “আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি, তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।”
মোহনপুরের বাসিন্দারা এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান। তারা বলছেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।


