
স্টাফ রিপোর্টার: রাকিবুল ইসলাম

রাজশাহীতে হঠাৎ করে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত দাম ১২ কেজির সিলিন্ডারের জন্য ১,৩০৬ টাকা হলেও বাজারে বাড়তি দাম দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ভোক্তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় এই সংকট দিন দিন বেড়েই চলেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, ওমেরা ও ফ্রেশ ব্র্যান্ড ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানির সিলিন্ডার প্রায় পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ক্রেতারা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এক সপ্তাহ আগেও ১,২৫০ টাকায় পাওয়া যাওয়া সিলিন্ডার এখন ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোতে সংসারের খরচ বেড়ে গেছে। হোটেল-রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকান মালিকরা বলছেন, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে লোকসান গুনে ব্যবসা টিকিয়ে রাখছেন।
ভোক্তারা এই সংকটের জন্য অসাধু ব্যবসায়ী চক্রকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, সংকটের সুযোগ নিয়ে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে। রাজশাহীর বাসিন্দা জসিম উদ্দীন বলেন, “সরকারি দাম ১,৩০৬ টাকা হলেও আমি কিনেছি ১,৫০০ টাকায়। অনেক জায়গায় এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এটা কোনো সংকট নয়, এটা লুটপাট!”
অন্য এক গৃহিণী ফাতেমা বেগম বলেন, “আমাদের পরিবারে চার সদস্য। প্রতি মাসে একটা সিলিন্ডার লাগে। এখন বাড়তি ৩০০-৪০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। বাচ্চাদের খাবার, স্কুলের খরচ—সব মিলিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। শীতকালে রান্নার চাহিদা বেশি, কিন্তু গ্যাস না পেলে কী করব?”
কলেজ শিক্ষক মাহামুদা খানম বলেন, “আমরা মধ্যবিত্ত। পাইপলাইন গ্যাস নেই, তাই এলপিজির ওপর নির্ভর করি। এখন এই সংকটে সংসারের বাজেট ভেঙে পড়েছে। সরকারের কাছে দাবি, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করুন এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। না হলে সাধারণ মানুষের জীবন আরও কষ্টের হয়ে উঠবে।”
রাজশাহী বিভাগীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক ইব্রাহীম হোসেন বলেন, “সংকট ও বেশি দামের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযান চালাচ্ছি। সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।”
ডিলাররা মুখ খুলতে রাজি না হলেও স্থানীয়রা মনে করছেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা করা হচ্ছে।


