
রাজশাহী জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (MD) হুমায়ুন খালেদ ওরফে শিহাবের বিরুদ্ধে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নগরীর শালবাগানের প্রফেসার পাড়ায় একটি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন হাসপাতালের বেশ কিছু শেয়ারহোল্ডার।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান, হাসপাতালের শেয়ারহোল্ডার শামিম আহমেদ।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজশাহীতে একজন ভুক্তভোগী শেয়ারহোল্ডার হিসেবে আজ আপনাদের সামনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরতে এসেছি। আমি সহ আরও ৬২ জন শেয়ারহোল্ডার রাজশাহী জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ১০০টি শেয়ারের মালিক। আমরা ২০১৮ সালে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে যৌথভাবে ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু করি এবং পরে ২০২১ সালে হাসপাতাল ও এমআরআই সার্ভিস চালু করি।
প্রতিষ্ঠানের শুরুর সময় থেকেই হুমায়ুন খালেদ ওরফে শিহাব ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (MD) দায়িত্বে ছিলেন। অথচ আজ আমরা অত্যন্ত দুঃখ ও ক্ষোভের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, দীর্ঘ ৮ বছরে তিনি আমাদের কোনও হিসাব দেননি, বরং প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। শেয়ারহোল্ডারদের কোনো অনুমতি বা পরামর্শ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয়-ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণ এককভাবে পরিচালনা করেছেন। বিগত বছরগুলোতে কোনও নিরীক্ষা (অডিট) সম্পন্ন করতে দেননি। অংশীদারদের হিসাব চাওয়ার পর হুমকি-ধামকি, ভয়ভীতি সহ অস্ত্র প্রদর্শন করে এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যা ৬টায় শিহাব স্বশরীরে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে এসে সিসি ক্যামেরা ভাঙচুরসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী দ্বারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, যা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম বহির্ভূত ও অপরাধমূলক।
আমরা লক্ষ্য করেছি, শিহাব অল্প কয়েক বছরের ব্যবধানে রাজশাহী নগরীতে একাধিক ফ্ল্যাট, পাঁচতলা ভবন, পাবনায় ডুপ্লেক্স বাড়ি সহ অপ্রয়োজনীয় সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং ১৩ থেকে ১৫ জনের শেয়ার ক্রয় করেন। এসব অর্জন তার প্রকৃত আয়ের সাথে সাংঘর্ষিক, যা অর্থ আত্মসাতের আশঙ্কাকে আরও জোরালো করে।
শিহাব দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি করে এবং সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন ও চন্ডিপুরের শুটার রুবেলের (সহযোগী ছিলেন) এবং রুবেলের নাম ভাঙিয়ে আমাদের উপর প্রভাব বিস্তার ও ভয়ভীতি দেখায়। এছাড়াও শিহাব জুলাই-আগষ্টের ছাত্র জনতার আন্দোলনে বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগান দাতা। সে এখনো কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ সহ আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের নিয়ে নিয়মিত চলাফেরা করেন।
এ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডাররা ৬টি দাবি তুলে ধরেন;
১. পূর্বের ৮ বছরের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে।
২. স্বীকৃত অডিট ফার্ম দ্বারা প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ অডিট সম্পন্ন করতে হবে।
৩. ভুক্তভোগী শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
৪. শিহাবের অবৈধ কর্মকাণ্ড ও সম্পদ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
৫. আমাদের প্রতিষ্ঠানসহ শেয়ার হোল্ডারগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
৬. ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর শিহাবের অবিলম্বে গ্রেপ্তার দাবি করছি।
এক প্রশ্নের জবাবে শামিম আহমেদ বলেন, শিহাব কর্তৃক হয়রানি এবং অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার পেতে আমরা আজ আপনাদের মাধ্যমে দেশের মাননীয়, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শেয়ার হোল্ডার হাফিজুর রহমান, আতাউর রহমান, আবু সাঈদ, মজিবর রহমান প্রমুখ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন খালেদ ওরফে শিহাব জানান, সাক্ষাৎ এ আলাপ করি অফিসে আসেন। হিসাব নিকাশসহ সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিমাসে স্বাক্ষর করে সকল শেয়ার হোল্ডার লভ্যাংশ নিয়ে যান। তাদের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।


