
বরেন্দ্র অঞ্চলের পানিসংকট, খরা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে রাজশাহীতে চলমান খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। জেলা প্রশাসনের দাবি, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বুধবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, জেলার খাল খনন কার্যক্রমের অগ্রগতি বর্তমানে ৪৮ দশমিক ৩৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

জেলা প্রশাসক জানান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজশাহীতে ১৬টি খাল পুনঃখননের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এলজিইডি এবং দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিএমডিএ।
তিনি বলেন, “ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে খাল ও উন্মুক্ত জলাধার পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হয়। জেলা প্রশাসক জানান, সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। আগামী ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী চারটি কেন্দ্রে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৬৯ জন উপকারভোগীর মাঝে কার্ড বিতরণ করা হবে।
খেলাধুলার উন্নয়ন নিয়ে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী রাজশাহীর ছয়জন ক্রীড়াবিদকে বিশেষ কার্ড দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে সহায়তা পাবেন। এছাড়া ‘নতুন কুঁড়ি’ বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা আগামী ১৭ মে শুরু হবে। ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, মার্শাল আর্ট ও সাঁতারসহ আটটি ইভেন্ট এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বনায়ন কর্মসূচি প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজশাহীতে জুন মাসে প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার এলাকায় বাগান সৃজন করা হবে এবং প্রতি কিলোমিটারে এক হাজার করে গাছ লাগানো হবে। এছাড়া ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত জেলায় ৯৩ হাজার ২০০টি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষকদের সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজশাহীর ১১৩ জন কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফের আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংক এ পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এসব ঋণ মওকুফ করা হবে।
জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক নাফেয়ালা নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. এস. আই. এম রাজিউল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম, বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মনিরা খাতুন এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সরকারসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


