
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দলের তিনটি গোলই করেন কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির প্রধান অস্ত্র লিওনেল মেসি। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ইতিহাসগড়া হ্যাটট্রিকের পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে লিওনেল মেসি। তবে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর তাকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ব্রিটিশ উপস্থাপক পিয়ার্স মরগান।
ম্যাচের ১৭তম মিনিটে আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানেকে পরাস্ত করে স্কোরিংয়ের সূচনা করেন মেসি। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকদের দাঁড়িয়ে অভিবাদনও পান আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।
ম্যাচসেরা নির্বাচিত হওয়ার পর মেসি বলেন, ‘পরিবার, সতীর্থ এবং যারা সবসময় আমার পাশে ছিল তাদের সঙ্গে এই মুহূর্ত ভাগ করে নিতে পারা সত্যিই বিশেষ অনুভূতি। আমরা একটি কঠিন ম্যাচ জিতেছি এবং প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করাটা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ।’
সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘তারা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল নিয়ে কতটা উন্মাদ। স্টেডিয়ামজুড়ে তাদের সমর্থন আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।’
নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে মেসি বলেন, ‘এখন যা কিছু উপভোগ করছি, সবই অতিরিক্ত প্রাপ্তি। পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে আমি আমার স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু অর্জন করেছি।’
তবে ম্যাচের পর আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিলেন পিয়ার্স মরগান। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মেসির পারফরম্যান্সের প্রশংসা করলেও দাবি করেন, ম্যাচে একটি ঘটনায় আর্জেন্টাইন অধিনায়কের ‘লাল কার্ড’ দেখা উচিত ছিল।
মরগান লেখেন, ‘গত রাতে মেসির পারফরম্যান্স চমৎকার ছিল—কিন্তু আলজেরিয়ার মেন্দির ওপর বুটের স্পাইক উঁচিয়ে করা ওই মারাত্মক ফাউলের জন্য তাকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া (লাল কার্ড দেখানো) উচিত ছিল। সে একটা হলুদ কার্ডও পায়নি, এটা একেবারেই হাস্যকর—লোকটার পা-ই ভেঙে যেতে পারত।’
তার এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। অনেক সমর্থক অভিযোগ করেন, মরগান ইচ্ছাকৃতভাবে মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্সকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
এদিকে ইএসপিএনের বিশ্লেষক নেডুম অনুওহা ও আলে মোরেনোও ঘটনাটিকে লাল কার্ডযোগ্য অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) রেফারিকে ঘটনাটি পুনরায় পর্যালোচনার জন্য ডাকতে পারত।
তবে অধিকাংশ আর্জেন্টিনা সমর্থক মরগানের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, মেসির রেকর্ডগড়া পারফরম্যান্সের দিনেও সমালোচনার সুযোগ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে।
একজন আর্জেন্টাইন সমর্থক এক্সে মন্তব্য করেন, ‘মানুষ আপনি, অসুস্থ!’ আরেকজন লেখেন, ‘কান্না শুরু করার জন্য এখনো খুব দেরি।’ তৃতীয় একজন সমর্থক বলেন, ‘পিয়ার্স, মহানকে সম্মান করতে শিখুন। এতে আপনার কিছু হবে না।’
আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘মেসির পারফরম্যান্সের প্রশংসা করার ভান করার দরকার নেই। আপনি মেনে নিতে পারেন না যে মেসি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।’
আরও একজন সমর্থক লেখেন, ‘এত সামান্য দুর্ঘটনাবশত সংঘটিত ফাউলকে লাল কার্ড বলাটা অবিশ্বাস্য। বিশ্বের সেরা ফুটবলারকে মাঠ থেকে বের করে দিতে আপনি কতটা আগ্রহী, সেটাই এতে স্পষ্ট হয়েছে।’
এদিকে এখন সবার নজর মরগানের প্রিয় ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দিকে। বুধবার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে মাঠে নামবে পর্তুগাল।


