
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিতে উদ্ভাবনী উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘বরিন্দ অঞ্চল স্থিতিস্থাপক ও উদ্ভাবনী উন্নয়ন (BARIND)’ প্রকল্পের সূচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজশাহী নগরীর একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) আয়োজিত এ কর্মশালায় সরকারি, বেসরকারি ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মো. হাসান জাফির তুহিন। সভাপতিত্ব করেন বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান, এনডিসি (অতিরিক্ত সচিব)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমডিএ চেয়ারম্যান বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম প্রতিকূল কৃষি-পরিবেশগত এলাকা হিসেবে পরিচিত। জলবায়ু পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস, খরা এবং ভূমি অবক্ষয়ের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ‘বারিন্দ’ প্রকল্পটি টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি সম্প্রসারণ ও কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। এডিবি, আইডব্লিউএম ও বিএমডিএ’র যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ প্রকল্প বরেন্দ্র অঞ্চলের উন্নয়নে একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘বারিন্দ’ প্রকল্প কেবল একটি উন্নয়ন কর্মসূচি নয়; এটি বরেন্দ্র অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি পানি নিরাপত্তা, কৃষি উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতা নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত উদ্যোগ। পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতিতে বিএমডিএ’র কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও টেকসই করতে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএমডিএ সদর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ও বারিন্দ প্রকল্পের ফোকাল পারসন মো. হারুন-অর-রশিদ। তিনি বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চল দেশের অন্যতম খরা-প্রবণ এলাকা। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বিএমডিএ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। কর্মশালার মাধ্যমে অংশীজনদের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পথ খুঁজে বের করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইডব্লিউএমের উপ-নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) মো. সোহেল মাসুদ, এডিবির প্রিন্সিপাল ন্যাচারাল রিসোর্সেস অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ইকোনমিস্ট শিঙ্গো কিমুরা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক উপ-উপাচার্য ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান, এডিবির প্রিন্সিপাল ইকোনমিস্ট ড. তাকাশি ইয়ামানো, রুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নেয়ামুল বারি এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আবুল কাসেম।
কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গবেষক, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবং কৃষকরা অংশ নেন। বিএমডিএ, এডিবি, ডাসকো, রুয়েট, এলজিইডি, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি), ওয়ারপো, অর্থ মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রায় ৭০ জন প্রতিনিধি কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
অংশগ্রহণকারীরা বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সুপারিশ ও মতামত তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।


