
বগুড়ায় সদর দপ্তর নেওয়ার দাবির বিপরীতে কঠোর অবস্থান; দুই নেতার বক্তব্যে নতুন করে আলোচনায় আঞ্চলিক স্বার্থের প্রশ্ন !
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী থেকে নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের আলোচনা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, নেসকো কেন, রাজশাহী থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানই অন্য কোথাও যেতে দেওয়া হবে না। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, “রাজশাহীর সব প্রতিষ্ঠান রাজশাহীতেই থাকবে। নেসকো কেন, কোনো কিছুই রাজশাহী থেকে যাবে না।”
তিনি বলেন, “এখানে কিছু লোক আছে, যারা ফ্যাসিস্টদের দালাল। তারা বিষয়টি নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে পারে। কিন্তু নো, দিস ইজ রাজশাহী। রাজশাহী হবে ফার্স্ট।”
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও রাজশাহীর প্রতি দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “আমার কাছে মন্ত্রিত্ব, এমপি বা মেয়রের পদ বড় নয়। এই মাটিতেই আমার জন্ম, এই মাটিতেই আমার মৃত্যু হবে। আল্লাহ আমাকে অনেক সম্মান দিয়েছেন। আর কোনো কন্ট্রাক্টর কোথায় কোথায় যাবে বলল, তাতে কিছু আসে যায় না।”
ভূমিমন্ত্রীর এই বক্তব্য এসেছে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর। নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় নেওয়ার দাবির পক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “রাজশাহীর মানুষ সারাদিন চিৎকার করে। কোথায় রাজশাহী, কোথায় পঞ্চগড় পর্যন্ত এই বিদ্যুৎ সার্ভিস। আপনাদের এত ব্যথা লাগে কেন? হোক না বগুড়ায় হেড অফিস, আপনারা জোনাল অফিস নেন।”
তিনি আরও বলেন, “যতই সমালোচনা করেন, পার্লামেন্টে বলেন বা বাইরে বলেন, আমিসহ বগুড়ার সাতজন এমপি বগুড়ার উন্নয়নের প্রশ্নে একবিন্দু ছাড় দিতে রাজি নই।”
দুই নেতার এমন বিপরীতমুখী বক্তব্যে নেসকোর প্রধান কার্যালয় নিয়ে রাজশাহী ও বগুড়ার মধ্যে আঞ্চলিক স্বার্থের প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একদিকে বগুড়ার উন্নয়নের স্বার্থে প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের দাবি, অন্যদিকে রাজশাহীর কোনো প্রতিষ্ঠান অন্যত্র না নেওয়ার ঘোষণা—দুই অঞ্চলের রাজনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে।
নেসকোর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের বিষয়টি নিয়ে রাজশাহীতে কয়েক মাস ধরেই আলোচনা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও লেটার দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ হয়নি।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বগুড়াকে বিভাগ ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন। সম্প্রতি এ দাবিতে সভা-সমাবেশও হয়েছে। ফলে নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের আলোচনাকে অনেকে বৃহত্তর আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখছেন।
রাজশাহীবাসীর উদ্বেগের পেছনে অতীতের কিছু ঘটনাও রয়েছে। সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় বগুড়ায় স্থাপনকে রাজশাহীর প্রশাসনিক গুরুত্ব কমে যাওয়ার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই ধরনের আশঙ্কা থেকেই নেসকোর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের সম্ভাব্য উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
তাদের দাবি, আঞ্চলিক ভারসাম্য ও প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই থাকা উচিত। এমন প্রেক্ষাপটে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর প্রকাশ্য ও কঠোর অবস্থান নেসকো ইস্যুকে নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব দিয়েছে।



