
সারাদেশে নারীর প্রতি অব্যাহত সহিংসতা, ধর্ষণ, হত্যা ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে ৯০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ এবং ধর্ষকদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৪টায় নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সারাদেশে একযোগে কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কল্পনা রায়। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অঞ্জনা সরকার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রশিক্ষণ সম্পাদক সেলিনা বানু।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার নির্বাহী পরিচালক ফয়েজুল্লাহ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, পরিবর্তন রাজশাহীর নির্বাহী পরিচালক রাশেদ রিপন, সামাজিক কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সম্রাট রায়হান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আফরোজা আহমেদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক নিলুফার আহমেদ, দিনের আলো হিজরা সংঘের প্রোগ্রাম ম্যানেজার আতিয়া তানজিমা, আদিবাসী পরিষদ মহানগরের সহ-সাধারণ সম্পাদক ছোটন সরদার, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রাজশাহীর সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ হেমব্রম ও নারী সম্পাদিকা সাবিত্রী হেমব্রমসহ অনেকে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সারাদেশে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী নারীদের ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ঘরে-বাইরে নারী ও কন্যাশিশুরা সহিংসতার শিকার হওয়ায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়বে।
সভাপতির বক্তব্যে কল্পনা রায় বলেন, ‘সারাদেশে বিভিন্ন জেলায় ক্রমবর্ধমান নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী নারীদের ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ঘটনা জনজীবনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ঘরে ও বাইরে নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর এ ধরনের সহিংসতার ঘটনায় অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনায় অপরাধ বেড়ে চলেছে।’
তিনি বলেন, ধর্ষকদের বিচারের দাবিতে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন করে ৯০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে ধর্ষকদের ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে একাত্মতা ঘোষণা করেন।


