
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, জীবাশ্ম জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশকর্মী ও খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টায় রাজশাহী নগরীর এস কে ফুড রেস্টুরেন্টে ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি’ শীর্ষক এক প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ক্লিন’, ‘পরিবর্তন’ ও ‘বিডাব্লিউজিইডি’ যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ফেড) রাজশাহীর সভাপতি কল্পনা রায়। বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়বুর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক মুস্তাফিজুর রহমান খান, ‘পরিবর্তন’-এর পরিচালক রাশেদ রিপন এবং ক্যাম্পেইন অ্যাসোসিয়েট রনি রায়।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চল সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। সরকারি ভর্তুকি ও স্বল্প সুদের ঋণ সুবিধার মাধ্যমে সোলার সিস্টেম স্থাপন সম্প্রসারণ করা গেলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। তারা কৃষিজমিতে ‘এগ্রিভোল্টাইক’ পদ্ধতিতে একই সঙ্গে ফসল উৎপাদন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি মাছ চাষের জলাশয়ে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন বহুতল ভবনে স্থাপিত অকার্যকর রুফটপ সোলার প্যানেল দ্রুত সচল করা এবং বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সোলার পাম্পগুলো পুনরায় চালুর দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সৌরবিদ্যুৎ উদ্যোক্তা ইশতিয়াক আহমেদ জানান, একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রাজশাহীর ফলিয়া বিল এলাকায় ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটা নেসকোর কাছে বিক্রি করা হবে।
বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, এলএনজি ও কয়লার মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎব্যবস্থা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে এবং বিপুল ভর্তুকি ও ক্যাপাসিটি পেমেন্ট রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করছে।
তাদের মতে, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান এখনও খুবই কম। অথচ রুফটপ সোলার, সৌর সেচ, এগ্রিভোল্টাইকস, ফ্লোটাভোল্টাইকস এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক জ্বালানি ব্যবস্থার মতো উদ্যোগগুলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অধিক বরাদ্দ, সোলার প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের ওপর কর ও শুল্ক প্রত্যাহার, সহজ ঋণ সুবিধা এবং কার্যকর নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে নতুন কয়লা, তেল ও এলএনজিনির্ভর প্রকল্পে বিনিয়োগ সীমিত করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়ন, নেট মিটারিং সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতে সবুজ জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে পরিবেশকর্মী, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষার্থী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোক্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। টেকসই উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু-সহনশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনার জোর দাবি জানানো হয়।


